বরগুনার পাথরঘাটায় আদালতের নির্দেশে করা একটি মামলার বাদী ফাতিমা জোমাদ্দার অর্পার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে মামলার প্রধান আসামি বাদশা আকনের বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় মামলা গ্রহণে বিলম্ব এবং বাদীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে পাথরঘাটা থানার ওসি মোহাম্মদ এনামের বিরুদ্ধেও।
বৃহস্পতিবার দুপুর বারোটার দিকে উপজেলার চরদুয়ানী এলাকা থেকে পাথরঘাটা থানায় যাওয়ার পথে অর্পার পথরোধ করে তাকে মারধর করা হয় এবং একটি ঘরে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহেদ চৌধুরী বলেন, হামলার খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয় এবং বাদীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
অর্পার অভিযোগ, মামলার প্রধান আসামিকে বুধবার রাতে পুলিশ আটক করলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর পরদিনই তিনি হামলার শিকার হন। হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও জানান তিনি।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বিশ মে বরগুনার এসিড অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সাইফুর রহমান অর্পার করা অভিযোগ এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পাথরঘাটা থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।
তবে অর্পার দাবি, আদালতের নির্দেশনা থাকার পরও মামলা নিতে বিলম্ব করা হয়। আদালতের আদেশ নিয়ে থানায় গেলে সহযোগিতা না পেয়ে উল্টো অপমানজনক আচরণের শিকার হন তিনি।
অর্পার অভিযোগ, ওসি মোহাম্মদ এনাম তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি সেই মাল? ইবলিস যেন কোথাকার’। এতে তিনি অপমানিত ও বিব্রত হয়েছেন বলে জানান। ওই সময় সাবেক পাথরঘাটা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির নেত্রী মরিয়ম চৌধুরী জেবু উপস্থিত ছিলেন বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে মরিয়ম চৌধুরী জেবু বলেন, ‘আমার উপস্থিতিতে ওসি মামলার বাদী অর্পাকে উদ্দেশ করে ‘আপনি সেই মাল?’ বলে মন্তব্য করেন। একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার মুখে এমন কথা শুনে উপস্থিত সবাই বিব্রত হয়েছিল। আদালতের নির্দেশনা যথাসময়ে বাস্তবায়ন এবং আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে হয়তো পরবর্তী ঘটনা এড়ানো যেত।’
অর্পা আরও দাবি করেন, গত চৌদ্দ জুন মামলার বিষয়ে কথা বলতে ওসির সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করেও সাড়া পাননি। পরে ব্যক্তিগত নম্বরে যোগাযোগ করলে মামলার বিষয়ে কথা না বলে কেন ব্যক্তিগত নম্বরে ফোন করা হয়েছে, তা নিয়ে তাকে জবাবদিহি করতে বলা হয়। এ বিষয়ে একটি অডিও রেকর্ড তার কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহেদ চৌধুরী জানান, ওসির বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওসির সরকারি ফোনে যোগাযোগ না পাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওসির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ এর আগেও শোনা গেছে।’