সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দান ও অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে মাজারের দানের তিনটি ডেগ সিলগালা করার পাশাপাশি নতুন ছয়টি দানবাক্স স্থাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল বাছিত মোল্লার নেতৃত্বে মাজারের দানের তিনটি ডেগ সিলগালা করা হয়। একই সময়ে মাজার প্রাঙ্গণে একটি প্রধান দানবাক্সসহ বিভিন্ন স্থানে নতুন দানবাক্স বসানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, দান সংগ্রহের পুরো প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল করতে ডাবল লক পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। দানবাক্সের চাবি মাজার কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের কাছে থাকবে। আগে যেসব স্থানে সরাসরি নগদ অর্থ নেওয়া হতো, সেসব জায়গায় নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়েছে।
পুরনো দানবাক্সগুলোর মধ্যে কয়েকটিতে সিলগালা এবং কয়েকটিতে ডাবল লক লাগানো হয়েছে। দানবাক্স পরিচালনা ও তদারকির জন্য সরকারি কর্মকর্তা এবং মাজার কমিটির প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
এখন থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের দেওয়া অনুদান প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে থাকা এসব দানবাক্সের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে।
মাজারে আসা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় প্রতি শিফটে আঠারোজন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি পুরো মাজার কমপ্লেক্সকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনার কাজ চলছে, যাতে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধ করা যায়।
এ ছাড়া মাজার এলাকার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জরুরি চিকিৎসাসেবা দিতে মেডিকেল সাপোর্ট সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের পার্কিং ও যানজট সমস্যা সমাধানের জন্য মাজার এলাকাকে ঘিরে একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরির কাজ চলছে। এটি বাস্তবায়ন হলে মাজার এলাকার শৃঙ্খলা ও সেবার মান আরও বাড়বে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডাবল লক সিস্টেম চালু করা হয়েছে। নতুন করে ছয়টি দানবাক্স স্থাপন করা হয়েছে, যেগুলোর চাবি প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে থাকবে। দানবাক্স পরিচালনার জন্য সরকারি কর্মকর্তা ও মাজার কমিটির প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরোনো দানবাক্সগুলোতে সিলগালা ও ডাবল লকের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মাজারে আসা ভক্ত ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতি তিন শিফটে আঠারোজন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুরো মাজার কমপ্লেক্স সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক জানান, পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় বাড়তি কর্মী নিয়োগ, জরুরি চিকিৎসার জন্য মেডিকেল সাপোর্ট সেন্টার চালু এবং পার্কিং ও যানজট সমস্যা সমাধানে মাস্টার প্ল্যান তৈরির কাজ চলছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের জন্য আরও নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
এর আগে গত বারো জুন হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম। পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের লক্ষ্য। এ জন্য মাজার দুটির ব্যবস্থাপনায় একটি সুশৃঙ্খল কাঠামো ও নির্দিষ্ট মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজার সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থাপনা। প্রতিদিন দেশ-বিদেশের অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী এসব মাজারে আসেন এবং নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কারসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী দান করেন। দীর্ঘদিন ধরে আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এসব পদক্ষেপ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।