Skip to main content

Ridge Bangla

ভারতে গাড়িতে আগুন দিয়ে বিজেপি নেতাকে হত্যার অভিযোগ

ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যের কোরিয়া জেলায় বালু উত্তোলন নিয়ে বিরোধের জেরে বিজেপি নেতা ও সাবেক জনপদ পঞ্চায়েত সভাপতি ভারত সিং নিহত হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, ট্রাক দিয়ে তার গাড়ি আটকে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার গভীর রাতে সোনহাট থানার নওগাইন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গাড়ির ভেতরেই পুড়ে মারা যান ভারত সিং। হামলায় আহত বিরেন্দ্র সিং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। নিহত অপর ব্যক্তি শিক্ষক নাগেন্দ্র সিং, যিনি ভারত সিংয়ের চাচাতো ভাই ছিলেন।

এ ঘটনায় আহত ময়াঙ্ক সিং বিলাসপুরের অ্যাপোলো হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার মাথা ও মুখে গুরুতর আঘাত রয়েছে।

ভারত সিংয়ের পরিবারের দাবি, বালু উত্তোলন নিয়ে চলমান বিরোধ সমাধানের জন্য তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তবে পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁদে ফেলে হামলা চালানো হয়।

ঘটনার পর অক্ষত ত্রিপাঠী, বিশাল ত্রিপাঠী, সত্যপ্রকাশ ত্রিপাঠী ও মান্নু ত্রিপাঠীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ গুরুতর অভিযোগে মামলা হয়েছে। পলাতকদের ধরতে অভিযান চলছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই এলাকায় বালু উত্তোলনের ইজারা ছিল ভারত সিংয়ের পরিবারের হাতে। বালু পরিবহন ও অবৈধ অর্থ আদায়কে কেন্দ্র করে ভারত সিংয়ের পক্ষ এবং বিজেপি নেতা মনোজ ত্রিপাঠীর পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার সময় ভারত সিং ও তার সহযোগীরা একটি ফর্চুনার গাড়িতে ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সামনে ও পেছনে ট্রাক দাঁড় করিয়ে গাড়িটি আটকে দেওয়া হয়। এরপর গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

আগে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ভূপেশ বাঘেল সরকারের সময় বিজেপিতে যোগ দেন ভারত সিং। স্থানীয় রাজনীতি ও বালু ব্যবসায় তিনি প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

নিহতের পরিবার এ ঘটনার সিবিআই তদন্ত দাবি করেছে। তাদের অভিযোগ, এটি হঠাৎ ঘটে যাওয়া সংঘর্ষ নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

তবে পুলিশ জানিয়েছে, গাড়িতে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুরেশা চৌবে বলেন, বালু উত্তোলন নিয়ে ত্রিপাঠী ও ঠাকুর গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। মঙ্গলবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সময় গাড়িটিতে আগুন দেওয়া হয়।

সোনহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিনোদ পাসওয়ানও বালু ব্যবসা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অবৈধ বালু উত্তোলন ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার জেরেই সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ছত্তিশগড়ের রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই জানিয়েছেন, কয়েকজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় বিধায়ক ভাইয়ালাল রাজওয়াদে ঘটনাটিকে কোরিয়া জেলার ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেছেন। সাবেক বিধায়ক গুলাব কামরোও ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

This post was viewed: 25

আরো পড়ুন