Ridge Bangla

পর্যটন খাতে দুই কোটির বেশি কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য সরকারের

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম জানিয়েছেন, পর্যটন মহাপরিকল্পনার আওতায় দুই হাজার চল্লিশ সালের মধ্যে পর্যটন খাতে দুই কোটি উনিশ লাখ চল্লিশ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে পর্যটন ও সেবা খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব তথ্য জানান।

কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম জানতে চান, ব্যাপক সম্ভাবনা থাকার পরও পর্যাপ্ত প্রচার ও ব্র্যান্ডিংয়ের অভাবে পর্যটন খাত পিছিয়ে রয়েছে কি না এবং এ খাতের উন্নয়ন ও সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সরকার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে কি না।

জবাবে পর্যটনমন্ত্রী জানান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের বিপণন, ব্র্যান্ডিং এবং সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ এখনো প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত নয়।

তিনি জানান, দেশের পর্যটন সম্ভাবনা বিশ্বব্যাপী তুলে ধরতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলায় অংশগ্রহণ, রোড শো, ব্যবসায়িক বৈঠক, বিদেশি ট্যুর অপারেটর, গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে পরিচিতিমূলক ভ্রমণের আয়োজন করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাধ্যমে প্রচার, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও ডিজিটাল মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণ তুলে ধরা হচ্ছে।

পর্যটনমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড পর্যটন প্রচারের জন্য বিভিন্ন ভিডিও, প্রামাণ্যচিত্র ও ছবি তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণ নিয়ে আটাশটি তিন থেকে ছয় মিনিট দৈর্ঘ্যের প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচ শতাধিক অডিও ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট প্রস্তুত করে বিউটিফুল বাংলাদেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ফটোগ্রাফার ও ভিডিওগ্রাফারদের উৎসাহিত করতে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দুইশ ছবি এবং দুই থেকে চার মিনিট দৈর্ঘ্যের ষাটটি পর্যটনভিত্তিক ভিডিও প্রামাণ্যচিত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।

পর্যটন পণ্য ও সেবার প্রচারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে ছবি ও ভিডিও প্রকাশের পাশাপাশি বিউটিফুল বাংলাদেশ নামে একটি প্রচারণামূলক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দেশের পর্যটন আকর্ষণ তুলে ধরা হচ্ছে।

বিদেশি ট্যুর অপারেটর, ভ্রমণ লেখক, প্রভাবশালী ব্যক্তি, ব্লগার, সাংবাদিক এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি মিশনের কূটনীতিকদের নিয়ে পরিচিতিমূলক ভ্রমণের আয়োজন করা হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, খাবার, পণ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরতে শ্রীমঙ্গলে হারমনি ফেস্টিভ্যাল আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পর্যটনমন্ত্রী জানান, বিদেশি ও দেশীয় ট্যুর অপারেটরদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে ব্যবসায়িক বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটানের সাতানব্বই জন ট্যুর অপারেটর এবং বাংলাদেশের একশ পঁচিশজন ট্যুর অপারেটরসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ঢাকায় বৈঠক হয়েছে।

বিদেশি পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে পর্যটনবিষয়ক প্রচারসামগ্রী পাঠানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়া বিদেশি পর্যটকদের তথ্য সহায়তার জন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টার চালু করা হয়েছে। বেনাপোল স্থলবন্দর ও সেন্টমার্টিন দ্বীপেও একই ধরনের কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

দক্ষ জনবল তৈরির বিষয়ে আফরোজা খানম জানান, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের মাধ্যমে ন্যাশনাল ট্যুরিজম হিউম্যান ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজি গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

এ প্রতিষ্ঠানে ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, ফ্রন্ট অফিস ম্যানেজমেন্ট, হাউজ কিপিং, ট্রাভেল ট্যুরিজম অ্যান্ড টিকিটিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করতে ট্যুর গাইডদের বিদেশি ভাষা ও সেবা প্রদানের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পর্যটন শিল্পের মধ্যে সম্পর্ক বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ট্যুর অপারেটর, ট্যুর গাইড, ট্রাভেল এজেন্ট, হোটেল কর্মী, ক্রুজ শিপের কর্মী, ট্যুরিস্ট পুলিশ, স্ট্রিট ফুড বিক্রেতা, কমিউনিটিভিত্তিক পর্যটনকর্মী, হোমস্টে পরিবার ও স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান পর্যটনমন্ত্রী।

This post was viewed: 6

আরো পড়ুন