ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। দুই দেশের উত্তেজনা কমানো, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবার চালু করা এবং ইরানের ওপর থাকা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের লক্ষ্য নিয়ে এই সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৯ সেন্ট বা ১ দশমিক ১২ শতাংশ কমে ৭৮ দশমিক ৬৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ৯৮ সেন্ট বা ১ দশমিক ২৮ শতাংশ কমে হয়েছে ৭৫ দশমিক ৮১ ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির ফলে ইরানের তেল দ্রুত আন্তর্জাতিক বাজারে ফিরতে পারে- এমন সম্ভাবনায় বাজারে বিক্রির চাপ বেড়েছে। ১৪ দফার এই সমঝোতায় আগামী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির পুনর্গঠনে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা পরিকল্পনাও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে ২০২৭ সালে বৈশ্বিক বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরি হতে পারে।
এদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে চলতি বছর সুদের হার বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ। এমন সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং তেলের চাহিদায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে এই চুক্তি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, সেটিই তেলের বাজারের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।