২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর এক সময় রাজনীতি থেকে অবসরের কথা চিন্তা করেছিলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তবে এখন তিনি আর তেমনটা ভাবছেন না। সেই ভাবনা নাকচ করে বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।
মঙ্গলবার (৯ জুন) নয়াদিল্লিতে গণমাধ্যম ‘এই সময়’কে দেওয়া এক দীর্ঘ ও একান্ত সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা।
তাঁর ভাষায়, এখন দেশের গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বন্ধ করতে আইন হয়েছে, দলীয় নেতাকর্মীরা কারাগারে ও সংখ্যালঘুরা আতঙ্কে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
তিনি বলেন, একসময় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ভেবেছিলেন। তবে বর্তমানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের দুর্দশার কথা বিবেচনায় নিয়ে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন।
তার বাবা শেখ মুজিবুর রহমান মানুষের দুঃসময়ে তাদের পাশে থাকার শিক্ষা দিয়েছেন। ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই তার পরিবারে পরিণত হয়েছিল। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের ছেড়ে অবসরে যাওয়া সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি এ সময় জোর দিয়ে বলেন, অতীতে পাকিস্তানি শাসক, সামরিক শাসকরা যেভাবে আওয়ামী লীগকে মুছে দিতে পারেনি, সেভাবে বর্তমান বিএনপি সরকারও পারবে না।
মূলত শেখ হাসিনার রাজনীতি থেকে অবসরের আলোচনা সামনে আসে তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, জয়ের মন্তব্য তার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রতিফলন ছিল। তিনি বহুবার নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। এমনকি আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক কাউন্সিলগুলোতেও তিনি তরুণদের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে শেখ হাসিনা স্পষ্ট করেছেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জনগণের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচনে আসার পরেই তিনি অবসরে যাবেন।