ইরান সরকারকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে পরিচালিত একটি গোপন অভিযান ব্যর্থ হওয়ার পর ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের উপপ্রধানকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম। দুই দশকের বেশি সময় ধরে সংস্থাটিতে কাজ করা এই কর্মকর্তার বিদায় ঘিরে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ দুইটি বেনামী সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা প্রায় এক বছর আগে শুরু হওয়া একটি বিশেষ প্রকল্পের দায়িত্বে ছিলেন। এই অভিযানের জন্য এক বিলিয়ন শেকেল বা প্রায় ৩৪৪ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এতে কয়েক শ দক্ষ কর্মী যুক্ত ছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল ইরানের নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা।
চ্যানেল ১২-এর সূত্রগুলোর দাবি, বড় পরিসরের এই অভিযান শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। এ বিষয়ে এক সূত্র জানায়, “যেমনটি সবাই ইতিমধ্যে জানেন, এই অভিযানের ফলাফল মোটেও আশানুরূপ হয়নি।”
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোসাদের নতুন পরিচালক রোমান গফম্যান গত শুক্রবার ওই কর্মকর্তাকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেন। দায়িত্ব হারানো কর্মকর্তা ২২ বছর ধরে সংস্থাটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন।
তবে মোসাদ কিংবা ইসরায়েল সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে কথিত অভিযানের ব্যর্থতার কোনো সম্পর্কের কথা জানায়নি।
গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে মোসাদের পক্ষ হয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিষয়টিকে নতুন পরিচালকের অধীনে স্বাভাবিক ‘নেতৃত্ব পরিবর্তন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সংস্থার লক্ষ্য বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন জ্যেষ্ঠ নেতৃত্ব দল গঠনের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে এই খবর প্রকাশের কয়েক দিন আগে ইসরায়েলি সংবাদপত্র ইয়েদিওথ আহরোনথ আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে দাবি করা হয়, ইরানকে দুর্বল করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মোসাদ গাজায় হামাস ও লেবাননে হিজবুল্লাহর কাছ থেকে জব্দ করা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর কাছে সরবরাহ করেছিল।
ওই প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-ও এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তবে পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে তা বন্ধ হয়ে যায়।