চলতি মৌসুমে দিনাজপুর জেলায় প্রায় ৩১ হাজার ৭৯০ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। লক্ষ্যমাত্রা পূরণের এই আবহে দেশের লিচুর রাজ্যখ্যাত দিনাজপুরে এখন চলছে মৌসুম শুরুর জমজমাট বেচাকেনা।
গত বছর দিনাজপুরে লিচুর বাজারমূল্য প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা থাকলেও এ বছর তা ৯০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছেন দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন।
বড় অঙ্কের এই অর্থনৈতিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে প্রশাসন। এ বিষয়ে দিনাজপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, লিচুর মৌসুম ঘিরে বিভিন্ন আড়ত, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলোতে পুলিশি নজরদারি ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে।
বাগান মালিক, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকার ও ব্যবসায়ীরা যাতে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, প্রতারণা বা অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন নিরবচ্ছিন্নভাবে তদারকি করছে। একই সঙ্গে লিচু পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশ সর্বাত্মক সহযোগিতা দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, মৌসুমের শুরুতেই জেলা শহরের নিউমার্কেট এলাকায় বসেছে দিনাজপুরের সবচেয়ে বড় লিচুর বাজার। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখর থাকছে এই এলাকা। বাজারে লিচুভর্তি ভ্যান, ইজিবাইক ও ছোট ট্রাকের দীর্ঘ সারির কারণে তৈরি হচ্ছে জায়গা সংকট। ফলে অনেক চাষি ও বাগান মালিককে রাস্তার ওপর দাঁড়িয়েই লিচু বিক্রির জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যাচ্ছে।
বাজারজুড়ে এখন দেখা যাচ্ছে সারি সারি ঝুড়িতে সাজানো মাদ্রাজি, বেদানা, বোম্বাই ও চায়না-থ্রি জাতের লিচুর সমাগম ও দর-কষাকষির চেনা দৃশ্য।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, দিনাজপুরে বর্তমানে ৫ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে মোট ৫ হাজার ৪১৮টি বাণিজ্যিক লিচু বাগান রয়েছে। এর মধ্যে বোম্বাই জাতের লিচু চাষ হয়েছে ৩ হাজার ১৭০ হেক্টরে, মাদ্রাজি ১ হাজার ১৬৬ হেক্টরে, চায়না-থ্রি ৮০২ হেক্টরে এবং বেদানা ২৯৫ দশমিক ৫ হেক্টরে। এছাড়াও কাঁঠালি ও মোজাফফরপুরী জাতের লিচুর পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন বসতবাড়ি ও ব্যক্তিগত বাগানে প্রায় ৭ লাখ লিচুগাছ রয়েছে।
বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে চাষিরা ভালো ফলন ও সন্তোষজনক দাম পেয়ে খুশি প্রকাশ করলেও পাইকারদের দাবি, গত বছরগুলোর তুলনায় এবার লিচুর দাম কিছুটা কম। তবে ব্যবসায়ী, চাষি এবং কৃষি কর্মকর্তারা আশাবাদী যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে পাইকারদের আগমন আরও বাড়লে বাজারে লিচুর দামও বৃদ্ধি পাবে।