জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তিনটি হত্যা মামলার এফআইআর-ভুক্ত আসামি আবুল ফয়েজ মোহাম্মদ আলাউদ্দিন খানকে অবশেষে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে।

অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন খান সামির অনুসন্ধানে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় আলাউদ্দিন খানের ব্যাপারে। তিনি যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং আওয়ামী লীগ নেতা মির্জা আজমের ঘনিষ্ঠজন।
এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে আলাউদ্দিন খান সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসন ও জনসাধারণের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে একজন ব্যক্তি, যিনি তিনটি হত্যা মামলার সঙ্গে যুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত, এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বে থাকতে পারেন।
জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান ও পরবর্তী হত্যাকাণ্ডের সময় আলাউদ্দিন খান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্বৈরাচারী সরকারের সময় জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছিল। এ ধরনের পদায়ন জাতীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য উদ্বেগজনক।
সম্প্রতি জুলাই যাদুঘর ও জুলাই ডকুমেন্টারি-সংক্রান্ত কার্যক্রমে তার ভূমিকার কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে বিরক্তি তৈরি হয়েছে। যাদুঘর উদ্বোধনের বিলম্বের পেছনে আলাউদ্দিন খানের ভূমিকাকে কেন্দ্র করে অনিয়ম এবং ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দ্রুত তদন্ত করে দেখা উচিত, কীভাবে তিনটি হত্যা মামলার এফআইআর-ভুক্ত ব্যক্তি এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিযুক্ত হয়েছেন। নৈতিক যোগ্যতা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়েও সংশ্লিষ্ট মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে।