Skip to main content

Ridge Bangla

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের ৪০ দিনে প্রাণহানির চিত্র

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে বারুদের গন্ধ আর ধ্বংসস্তূপের মাঝে দীর্ঘ ৪০ দিন পর অবশেষে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত এ অঞ্চলের মানচিত্রকে এক ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হওয়া দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতির প্রাক্কালে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দেওয়া তথ্যে উঠে এসেছে নিহতের পরিসংখ্যান। এ ব্যাপারে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরান

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানে নিহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থার হিসাবে নিহত ৩,৬৩৬ জন। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর তথ্যে এই সংখ্যা প্রায় ১,৯০০।

লেবানন

২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া হামলায় লেবাননে প্রাণহানি পৌঁছেছে ১,৫৩০ জনে। নিহতদের মধ্যে অন্তত ১২৯ শিশু রয়েছে। এ ছাড়া পৃথক দুই ঘটনায় জাতিসংঘের তিন শান্তিরক্ষী নিহত হন, যারা ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। সাংবাদিক ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও হতাহতদের তালিকায় রয়েছেন।

ইরাক

সংঘাতের প্রভাব ইরাকেও পড়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১১৭ জন নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েল

ইরান ও লেবানন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে ২৩ জন নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযানে ইসরায়েলের ১১ জন সেনার মৃত্যু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র

এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ জন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৩০০ জনের বেশি। এমন তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।

সংযুক্ত আরব আমিরাত

দেশটিতে মোট ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে দুইজন সেনাসদস্য রয়েছেন।

কাতার

২২ মার্চ কাতারের জলসীমায় একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিয়মিত দায়িত্ব পালনের সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

কুয়েত

কুয়েতে সাতজন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

পশ্চিম তীর (ফিলিস্তিন)

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পশ্চিম তীরে চারজন ফিলিস্তিনি নারী নিহত হয়েছেন।

সিরিয়া

দক্ষিণাঞ্চলের সুয়েইদা শহরে একটি ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

বাহরাইন

ইরানের পৃথক দুই হামলায় দেশটিতে দুইজন নিহত হয়েছেন।

ওমান

১৩ মার্চ সোহর অঞ্চলের একটি শিল্প এলাকায় ড্রোন হামলায় দুইজন নিহত হন।

সৌদি আরব

রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আল-খারজ এলাকায় আবাসিক এলাকায় গোলাবর্ষণে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

ফ্রান্স

উত্তর ইরাকে ড্রোন হামলায় একজন ফরাসি সেনা নিহত হয়েছেন।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনী ইরানে অভিযান শুরু করলে হামলার পাল্টা জবাব দিতে দ্রুত সক্রিয় হয় ইরান। এর ফলে সংঘাত শুধু ইসরায়েলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।

বহু দেশে ছড়িয়ে পড়া এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়। যদিও সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, তবে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিরতি কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে। আলোচনার টেবিলে সমঝোতা না হলে পরবর্তীতে এই ধরনের সংঘাত আবারও শুরু হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অঞ্চলে আরও ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

This post was viewed: 50

আরো পড়ুন