বাংলাদেশ ক্রিকেটে নারী ও পুরুষ ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকের বৈষম্য দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার বিষয় ছিল। এবার সেই বৈষম্যের সমাধান হতে যাচ্ছে। গত এক বছরে বেতন বৈষম্যের ব্যবধান কমাতে বিসিবিকে বেশ সক্রিয়ভাবে কাজ করতে দেখা গেছে। গত ডিসেম্বরে এক দফায় বাড়ানো হয়েছিল পারিশ্রমিক, বছর না ঘুরতেই তা আবারও বাড়ানো হলো। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জাতীয় নারী ক্রিকেটারদের বেতন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার (৩ নভেম্বর ২০২৫) বিসিবির বোর্ড সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং তা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।
বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের সভায় সোমবার (৩ নভেম্বর) অনুমোদন করা হয় নতুন পারিশ্রমিক কাঠামো। সভা শেষে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন জানান, “নারী ক্রিকেটারদের দৈনিক ভাতা ৫০ ডলার থেকে ৭৫ ডলার করা হয়েছে এবং সফর ফি ২৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৫০ ডলার করা হয়েছে। বোর্ড সভায় এটি অনুমোদন পেয়েছে।” ফলে দৈনিক ভাতা ৬,১০২ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৯,১৫৩ টাকা এবং সফর ফি ৩,০৫১ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬,১০২ টাকা।
নতুন কাঠামোয় ক্যাটাগরি অনুযায়ী মাসিক বেতন বৃদ্ধির হিসাব হলো-
- ‘এ’ ক্যাটাগরি: ১ লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
- ‘বি’ ক্যাটাগরি: ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
- ‘সি’ ক্যাটাগরি: ৭০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৫ হাজার টাকা।
- ‘ডি’ ক্যাটাগরি: ৬০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা।
চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া নতুন চুক্তিতে জাতীয় নারী দলের ‘এ’ ক্যাটাগরিতে আছেন নিগার সুলতানা, নাহিদা আক্তার ও শারমিন আক্তার। ‘বি’ ক্যাটাগরিতে রয়েছেন ফারজানা হক, রিতু মনি, ফাহিমা খাতুন, মারুফা আক্তার, রাবেয়া খান ও সোবহানা মোস্তারি।
‘সি’ ক্যাটাগরিতে রয়েছেন স্বর্ণা আক্তার, আর ‘ডি’ ক্যাটাগরিতে আছেন সুমাইয়া আক্তার, ফারিহা ইসলাম, রুবাইয়া হায়দার, সানজিদা আক্তার ও নিশিতা আক্তার।
এছাড়াও জাতীয় দলের অধিনায়ক এবং সহ-অধিনায়কের জন্য যথাক্রমে অতিরিক্ত ৩০ হাজার ও ২০ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে এবার নারী ক্রিকেটারদের মাসিক বেতন গড়ে ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া চুক্তির বাইরে থাকা কোনো ক্রিকেটার যদি জাতীয় দলের হয়ে খেলেন, তবে প্রতি ম্যাচে তাকে ৬০ হাজার টাকা করে পারিশ্রমিক দেওয়া হবে।