Skip to main content

Ridge Bangla

সহিংসতা থামছে না রাউজানে, একের পর এক খুনে আতঙ্কে স্থানীয়রা

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা রক্তাক্ত সহিংসতায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিগত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এলাকায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড, গুলি, ছুরিকাঘাত কিংবা পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটছে, তবুও এখনো পর্যন্ত অধিকাংশ মূল আসামি ও ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে রাউজান ও আশপাশের এলাকায় অন্তত ১৭টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে ১২টি ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক কোন্দলের যোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে, পুলিশের দাবি অনুযায়ী গ্রেপ্তার হয়েছে ৬০ জন।

তবে নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, মূল পরিকল্পনাকারী ও অস্ত্রধারীরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিএনপির দুই প্রভাবশালী পক্ষ—গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারীদের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষই এসব হত্যার মূল কারণ। উভয় পক্ষই প্রতিটি ঘটনার দায় একে অন্যের ওপর চাপাচ্ছে।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. রাসেল বলেন, অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও রাজনৈতিক আধিপত্যের কারণেই হত্যার ঘটনা বাড়ছে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া এসব সহিংসতা বন্ধ করা কঠিন।

স্থানীয়ভাবে আলোচিত নাম মোহাম্মদ রায়হান, যার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে। ৬ জুলাই কদলপুর ইউনিয়নের বাজারে যুবদল নেতা সেলিমকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তাঁর নাম আসে। একইভাবে যুবদল কর্মী ইব্রাহিম ও সর্বশেষ আলমগীর আলম হত্যাকাণ্ডেও তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

রায়হানের বিরুদ্ধে ৫ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ১৩টি মামলা হয়েছে, এর মধ্যে ৬টি হত্যা মামলা। রায়হানকে নিয়ে আতঙ্কে এলাকাবাসী। নিহত যুবদল কর্মী আলমগীরের স্ত্রী লাভলী আক্তার বলেন, “আমার স্বামীকে যারা মেরেছে, তাদের ফাঁসি চাই। বারবার খুন হলেও কেউ ধরা পড়ে না।”

রাউজান থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, আলমগীর হত্যা রাজনৈতিক আধিপত্যের জতে ঘটেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি বলেন, অস্ত্রধারীদের শনাক্ত করা হয়েছে ও অভিযান চলছে।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন বলেন, দলীয় পরিচয় নয়—যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে; প্রয়োজনে দলীয়ভাবেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

This post was viewed: 62

আরো পড়ুন