ইতিহাসে জায়গা করে নিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো নারী প্রধানমন্ত্রী পেল সূর্য উদয়ের দেশ জাপান। দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন সানায়ে তাকাইচি। এর মাধ্যমে জাপানের দীর্ঘদিনের পুরুষ প্রাধান্যের রাজনীতি ও সামাজিক কাঠামোর মধ্যে তার এই নেতৃত্বে উঠে আসা হাজারো তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
তবে দেশটির সকল নাগরিক তাকাইচিকে নারীর ক্ষমতায়নের প্রতিনিধি হিসেবে দেখছেন না। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আয়দা ওগুরা বলেন, “জাপানের বাইরে সবাই খুব উত্তেজিত হয়ে বলছে—‘ওয়াও, জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী! এখন নিশ্চয়ই নারী-পুরুষ সমতার যুগ শুরু হবে।’ কিন্তু আমি মনে করি এটা খুবই সরল দৃষ্টিভঙ্গি।”
তার মতে, তাকাইচির রাজনৈতিক অবস্থান আসলে প্রচলিত পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থাকেই শক্তিশালী করে। ওগুরা বলেন, “তিনি যা বিশ্বাস করেন এবং যেভাবে রাজনীতি করেন, তাতে পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত নেই। বরং তিনি সেই পুরনো ব্যবস্থাকেই টিকিয়ে রাখছেন।”
সমালোচকদের মতে, তাকাইচির উত্থান প্রতীকি অর্জন হলেও, নীতিগত পরিবর্তন বা লিঙ্গ সমতার বাস্তব অগ্রগতি এখনো অনেক দূরের বিষয়।
৬৪ বছর বয়সী তাকাইচি সংসদের নিম্নকক্ষের আইনপ্রণেতাদের দ্বারা ২৩৭-১৪৯ ভোটে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, উদারপন্থী বিরোধী সাংবিধানিক ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা ইয়োশিহিকো নোদাকে হারিয়ে নির্বাচিত হন। ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) এই নেতা প্রথম রাউন্ডে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে এক ভোট দূরে থাকার পর ১২৫-৪৬ ভোটে দ্বিতীয়বারের মতো উচ্চকক্ষের আইনপ্রণেতাদের দ্বারা নির্বাচিত হন।