Skip to main content

Ridge Bangla

তিন দফা সংশোধন শেষে বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক দলগুলোর হাতে যাচ্ছে চূড়ান্ত জুলাই সনদ

হস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হবে চূড়ান্ত জুলাই সনদ। খসড়া সনদে থাকা তিনটি বিতর্কিত প্রতিশ্রুতি সংশোধন করে এবার তা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি দলের আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতেই এ সংশোধনী আনা হয়েছে। তবে সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে না বলে জানিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

গত ১৬ আগস্ট কমিশন জুলাই গণআন্দোলনের চেতনা সামনে রেখে জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ প্রস্তাব করে। এতে আট দফা প্রতিশ্রুতি রাখা হলেও তিনটি ধারা নিয়ে তীব্র আপত্তি ওঠে। এগুলো হলো—
১. সংবিধান বা বিদ্যমান আইনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব হলে সনদের প্রাধান্য পাওয়া,
২. সনদের ব্যাখ্যার ক্ষমতা কেবল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের হাতে থাকা,
৩. সনদের বৈধতা আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না।

কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তি ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে এসব ধারায় সংশোধনী আনা হয়েছে। তিনি জানান, চূড়ান্ত সনদটি দুই খণ্ডে সাজানো হচ্ছে— প্রথম খণ্ডে থাকবে প্রশাসনিক আদেশ বা অধ্যাদেশের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকরযোগ্য প্রতিশ্রুতি আর দ্বিতীয় খণ্ডে অন্তর্ভুক্ত হবে দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কার। তবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সনদের সঙ্গে থাকবে না।

অধ্যাপক রীয়াজ আরও বলেন, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত ও আইন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ সংক্রান্ত সুপারিশ সরকারকে আলাদাভাবে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেন, কমিশনের মেয়াদ ১৫ সেপ্টেম্বরের পর আর বাড়ানো হবে না।

কমিশনের সূত্র জানায়, গত কয়েকদিন ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক শেষে বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) অধ্যাপক রীয়াজ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দলগুলোর বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো উপদেষ্টাকে জানানো হয়। কিছু দল বাস্তবায়নের জন্য গণভোট, গণসমাবেশ, সাংবিধানিক সংস্কার অধিবেশন কিংবা রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারির মতো পদ্ধতির প্রস্তাব দেয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় কমিশন আবার বৈঠকে বসে সনদ চূড়ান্ত করবে এবং তা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হবে। পরে একটি জনসভায় দলগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে সনদে স্বাক্ষর করবে।

এ পর্যন্ত কমিশন ২৮টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছে। এর মধ্যে ২৬টি দলের মতামত পাওয়া গেছে। গত বছরের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করে। পরবর্তীতে এসব কমিশনের প্রধানদের নিয়ে গঠিত হয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন, যারা সমঝোতার ভিত্তিতে এই জুলাই সনদ প্রণয়নের কাজ করছে।

চলতি বছরের মার্চে কমিশন ৩২টি দল ও জোটের সঙ্গে বৈঠক করে ১৬৬টি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করে, যেখানে ৬২টি বিষয়ে ঐকমত্য হয়। দ্বিতীয় দফায় আরও ২০টি বিষয়ে সমঝোতা গড়ে ওঠে। তবে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও কয়েকটি দল নয়টি বিষয়ে ভিন্নমত জানায়। শেষ পর্যন্ত ৮৪টি প্রস্তাবের ভিত্তিতে প্রাথমিক খসড়া তৈরি করে ২৮ জুলাই রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হয়, যেখানে আট দফা প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এ বিষয়ে কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “এবার রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে যে সনদ পাঠানো হবে সেটিই চূড়ান্ত। এরপর আর কোনো মতামত নেওয়া হবে না।”

This post was viewed: 58

আরো পড়ুন