গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে উত্তাল ছিল পুরো দেশ। গুলির মুখে আন্দোলনে ঝরেছে রক্ত, হারিয়েছে স্বাভাবিক জীবন অনেক তরুণ। সময় পেরিয়ে গেলেও সেই রক্তাক্ত জুলাইয়ের দায় এখনো শেষ হয়নি।
গুলিবিদ্ধ লক্ষ্মীপুরের তরুণ খালেদ মাহমুদ সুজনের জীবনে এখনো চলছে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই। তার শরীরে রয়ে গেছে ছয়টি গুলি, যা প্রতিনিয়ত তাকে অসহ্য যন্ত্রণায় ভোগাচ্ছে। দারিদ্র্যের কারণে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা তো দূরের কথা, দেশেই তার পর্যাপ্ত চিকিৎসা হচ্ছে না।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের বাসিন্দা সুজন স্থানীয় একটি দোকানে কাজ করে সংসার চালাতেন। সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা বেতনে নিজের পড়াশোনা আর ভাইবোনদের খরচ চালাতেন তিনি। বাকপ্রতিবন্ধী বাবার বড় সন্তান হিসেবে পরিবারের সব দায়িত্ব ছিল তার কাঁধে।
গত ৪ আগস্ট, লক্ষ্মীপুর শহরের তমিজ মার্কেট এলাকায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় গুলিতে আহত হন সুজন। আহতদের সাহায্যে এগিয়ে গিয়ে নিজেই গুলিবিদ্ধ হন। এরপর দীর্ঘ আড়াই মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনটি গুলি বের করা গেলেও বাকি ছয়টি শরীরে রয়ে গেছে—ফুসফুস, পেট, হাতসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই গুলিগুলো অপসারণে প্রয়োজন উন্নত বিদেশি চিকিৎসা, যা সুজনের পরিবার বহন করতে অক্ষম। তার ভগ্নিপতি মোবারক হোসেন বলেন, “সুজন গরিব ঘরের সন্তান। চিকিৎসা না হলে শুধু সে নয়, পুরো পরিবারটাই ধ্বংস হয়ে যাবে। সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, এমন একজন সাহসী ছেলেকে বাঁচাতে পাশে দাঁড়ান।”
জেলা প্রশাসক রাজীব কুমার সরকার জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। তিনি আরও বলেন, “আহতদের পাশে প্রশাসন আছে, অপরাধীদের শাস্তিও নিশ্চিত করা হবে।”
সুজন এখনও বিশ্বাস করেন, “সবাই পাশে দাঁড়ালে আবারো ফিরতে পারব স্বাভাবিক জীবনে।” তার স্বপ্ন থেমে যাক না—এই প্রত্যাশাই এখন পুরো দেশের।