নির্মাতা শরাফ আহমেদ জীবন মনে করছেন, পাইরেসির কারণে বাংলা সিনেমা প্রতিনিয়ত এক ভয়াবহ অপরাধের শিকার হচ্ছে। তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে আমার মনে হচ্ছে, বাংলা সিনেমা প্রতিনিয়ত ধর্ষণের শিকার হচ্ছে! আর সেই ধর্ষক হচ্ছে যারা পাইরেসি করছে।”
শুক্রবার (২৭ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নির্মাতা জীবন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা যারা ভালোবেসে সিনেমা বানাই, তারা দিনরাত শ্রম দিয়ে, নিজের অর্থ, সময় ও ভালোবাসা ঢেলে একটি সিনেমা তৈরি করি। কিন্তু কিছু মানুষ তা বিনা অনুমতিতে চুরি করে ইউটিউব বা অন্যান্য মাধ্যমে আপলোড করে। তারা বসে বসে টাকা আয় করে, অথচ নির্মাতা পড়ে থাকেন লোকসানের হিসাব নিয়ে।” তার নির্মিত সিনেমা চক্কর সম্প্রতি পাইরেসির শিকার হয়েছে ইউটিউবে, যা নিয়েই এই প্রতিবাদ।
জীবন বলেন, “পাইরেসি বন্ধ করতে না পারলে বাংলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি কখনোই মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। একটা সিনেমা ব্যবসা করলেই তো হবে না, গোটা ইন্ডাস্ট্রিকে টিকিয়ে রাখতে হবে। সেটা সম্ভব হবে না যদি পাইরেসির বিরুদ্ধে সবাই একযোগে না দাঁড়ায়।”
তিনি পাইরেসিকে তুলনা করেছেন একটি মহামারির সঙ্গে। তার ভাষায়, “পাইরেসি একটা যুদ্ধ, একটা দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা ১৯৭১-এ জয়ী হয়েছি, কোভিডকে প্রতিহত করেছি। পাইরেসির বিরুদ্ধেও জয়ী হতে পারব, যদি বিবেককে জাগ্রত করা যায়, রাষ্ট্র যদি তার দায়িত্ব পালন করে।”
তিনি আরও বলেন, “আপনাকে একবার হলেও বলতে হবে, ‘আমি পাইরেসির পক্ষে না, আমি পাইরেসিকে সমর্থন করি না।’ ধর্ষকের শাস্তি যদি মৃত্যুদণ্ড হয়, তাহলে যারা আমার সিনেমাকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করছে, তাদের শাস্তিও হওয়া উচিত মৃত্যুদণ্ড।”
নির্মাতার মতে, সিনেমা কারও একার না— এটা সকলের। তাই সবাইকে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে লড়াই করতে হবে এই নীরব কিন্তু বিধ্বংসী অপরাধের বিরুদ্ধে।