জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তিনি বাজেট বক্তৃতা শুরু করেন। এটি বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট এবং দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বাজেট।
অধিবেশনে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। বাজেটের শিরোনাম নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’।
বাজেট বক্তৃতার শুরুতে অর্থমন্ত্রী দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বিগত সরকারের শাসনামল এবং জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাস্তবতার চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জাতীয় বাজেট কেবল সরকারের আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; বরং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা ও দেশের সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার একটি রূপরেখা।
অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও ন্যায্যতাভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন, জনমিতিক সুবিধার ব্যবহার এবং টেকসই উন্নয়ন কৌশল বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
প্রস্তাবিত বাজেটে ১০টি অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সবার জন্য উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, জাতীয় নিরাপত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন প্রতিষ্ঠা।