Ridge Bangla

৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে জাপানি ইয়েন, উদ্বেগে সরকার ও বিনিয়োগকারীরা

মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাপানের মুদ্রা ইয়েনের দর ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এক ডলারের বিপরীতে এখন গুনতে হচ্ছে রেকর্ড ১৬২ দশমিক ৫০ ইয়েন। এতে দেশটির অর্থনীতি, আমদানি ব্যয় এবং আর্থিক বাজার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ইয়েনের মান কমলেও সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সুদহারের বড় ব্যবধান মুদ্রাটির ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে ডলারের বিপরীতে ইয়েনের মূল্য চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে নিচে নেমে গেছে।

এর আগে গত এপ্রিল ও মে মাসে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে জাপান। বাজার স্থিতিশীল রাখতে সে সময় প্রায় ১২ ট্রিলিয়ন ইয়েন, অর্থাৎ প্রায় ৭৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হলেও তা স্থায়ী ফল দেয়নি। গত মাসেও ৭০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করা হয়। তবু চলতি সপ্তাহে আবারও দুর্বল হতে শুরু করে ইয়েন। সোমবার কিছুটা শক্তিশালী হয়ে প্রতি ডলারে ১৬১ দশমিক ৯৩ ইয়েনে উঠলেও মঙ্গলবার তা আবার নেমে ১৬২ দশমিক ৫০ ইয়েনে পৌঁছে যায়।

বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জাপান আবারও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে বড় ধরনের হস্তক্ষেপ করতে পারে। এ বিষয়ে দেশটির অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাটায়ামা বলেছেন, ইয়েনের ধারাবাহিক দরপতন রোধ এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন হলে সরকার কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

ইয়েনের এই অবমূল্যায়নের ফলে জাপানের আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা ভোক্তা মূল্যস্ফীতির ওপরও চাপ তৈরি করতে পারে। তবে অন্যদিকে দুর্বল ইয়েনের সুবিধায় দেশটির প্রযুক্তি খাত কিছুটা ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। শক্তিশালী প্রযুক্তিপণ্যের চাহিদার কারণে নিক্কেই সূচক শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে এবং বড় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আস্থা গত ৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

This post was viewed: 2

আরো পড়ুন