অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আরও ৩৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ সামরিক ফ্লাইটে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ব্র্যাক জানায়, উন্নত জীবনের আশায় ফেরত আসা এসব ব্যক্তি পরিবার-পরিজনের জমি, গয়না বিক্রি কিংবা ঋণ নিয়ে জনপ্রতি ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা, কেউ কেউ ৬০ থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। তবে অবৈধভাবে প্রবেশ ও আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় তারা শেষ পর্যন্ত শূন্য হাতে দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন।
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান জানান, বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও এভিয়েশন সিকিউরিটির সহায়তায় ফেরত আসা কর্মীদের জরুরি সহায়তা ও পরিবহন সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
ফেরত পাঠানো ৩৬ জনের মধ্যে নোয়াখালী জেলার বাসিন্দা ২১ জন, লক্ষ্মীপুরের দুই জন এবং ঢাকা, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, লালমনিরহাট, শরীয়তপুর, বরগুনা, ফেনী, সিরাজগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, নেত্রকোনা থেকে একজন করে রয়েছেন।
এ নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো বাংলাদেশির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯৩ জনে। ব্র্যাকের তথ্যমতে, অধিকাংশ ফেরত আসা ব্যক্তি প্রথমে বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়ে বৈধভাবে ব্রাজিলে যান। পরে সেখান থেকে মেক্সিকো হয়ে অবৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর আশ্রয়ের আবেদন বাতিল হলে মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাদের প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত নেয়।