কারিগরি ত্রুটি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বাড়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে সরকার।
রোববার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এ তথ্য জানান। তবে তিনি উৎপাদন বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্র দুটির নাম উল্লেখ করেননি।
মন্ত্রী বলেন, দুটি কেন্দ্রে ভিন্ন কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লারের টিউবে হঠাৎ ছিদ্র বা ‘লিক’ ধরা পড়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন স্থগিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে লাইটার জাহাজ থেকে কয়লা খালাস করা সম্ভব হয়নি। ফলে জ্বালানির সংকটে অপর বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদনও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
এই দুই কারণে একযোগে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যা বর্তমান চাহিদার তুলনায় বড় ধরনের ঘাটতি সৃষ্টি করেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিকে ‘জাতীয় সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, ‘এটি একটি জাতীয় সংকট। আসুন, আমরা সবাই মিলে এই সংকট উত্তরণের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে চেষ্টা করি।’
তিনি আরও জানান, এ পরিস্থিতি নিয়ে এরই মধ্যে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই এই সংকট মোকাবিলার চেষ্টা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রে জরুরি ভিত্তিতে মেরামতকাজ চলছে। একই সঙ্গে সমুদ্রের আবহাওয়ার পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ২ দিনের মধ্যে পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে। সেক্ষেত্রে দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের চাপও অনেকটা কমে আসবে।