Ridge Bangla

হামাস বন্দিদের জন্য বিশেষ কারা-উইং ঘিরে কুমিরের পরিখা খননের উদ্যোগ ইসরায়েলের

হামাস সদস্য সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের রাখা হয় এমন একটি বিশেষ কারা-উইংয়ের চারপাশে কুমির রাখার উদ্দেশ্যে পরিখা খননের কাজ শুরু করেছে ইসরায়েল। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন কেতজিওত কারাগারে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম।

বুধবার প্রকাশিত দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনোথ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কেতজিওত কারাগারের ভেতরে প্রায় ১৭০ মিটার দীর্ঘ পরিখা নির্মাণ করা হচ্ছে। এই পরিখা কারাগারের একটি বিশেষ অংশকে ঘিরে থাকবে, যেখানে মূলত হামাস-সংশ্লিষ্ট বন্দিদের রাখা হয়।

রামাত নেগেভ আঞ্চলিক কাউন্সিলের এক স্থানীয় কর্মকর্তা জানান, পরিখাগুলো কারাগারের অভ্যন্তরে নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে বাইরে থেকে এগুলো দেখা যাবে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, “সেখানে সত্যিই কুমির রাখা হবে কি না, তা কেউ নিশ্চিত নয়। তবে সে অনুযায়ীই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।”

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুমির রাখার উপযোগী পরিখা নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার বিষয়টি ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ও নিশ্চিত করেছে।

গত সপ্তাহে পরিবেশ সুরক্ষাবিষয়ক মন্ত্রী ইদিত সিলমান নিজ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের আপত্তি উপেক্ষা করে নীল নদের কুমিরকে ‘গৃহপালিত বন্য প্রাণী’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপরই প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শুরু হয়।

জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের দপ্তর জানিয়েছে, সিলমানের ওই সিদ্ধান্তের ফলে ‘কুমির কারাগার প্রকল্প’ বাস্তবায়নের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। তাদের দাবি, কেতজিওত কারাগারের বিশেষ উইংয়ে এই প্রকল্পের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।

ইয়েদিওথ আহরোনোথ-এর তথ্য অনুযায়ী, কুমিরগুলোর আবাসন, পরিচর্যা ও তদারকির জন্য পৃথক পরিকল্পনা তৈরি করেছে ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষ। এছাড়া কারারক্ষীদের কুমির সামলানোর প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। পুরো প্রকল্পের জন্য ২১ মিলিয়ন শেকেল, অর্থাৎ প্রায় ৬ দশমিক ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

ইসরায়েলের দাবি, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবরের পর থেকে হামাসের সামরিক শাখা নুখবা ইউনিটের সদস্য সন্দেহে শত শত ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিশেষ আদালতে বিচারের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এর আগে জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির কেতজিওত কারাগারের বিশেষ উইংয়ের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে বন্দিদের কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখার বিভিন্ন ব্যবস্থা দেখা যায়। ভিডিওতে বন্দিদের উইংয়ের বাইরে যেতে না দেওয়া, কম্বল ও পর্যাপ্ত খাবার না দেওয়া এবং লোহার পাতের ওপর ঘুমাতে বাধ্য করার দৃশ্যও উঠে আসে।

নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত কেতজিওত ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় কারাগার। এখানে ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য পৃথক অংশ রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীর থেকে আটক ব্যক্তিদের এই কারাগারে রাখা হচ্ছে।

ফিলিস্তিনি বন্দি-বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর দেশটির কারাগারগুলোতে আটক ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৮৩ শতাংশ বেড়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ হাজার ২৫০, বর্তমানে তা বেড়ে ৯ হাজার ৬০০-এরও বেশি হয়েছে।

This post was viewed: 3

আরো পড়ুন