Ridge Bangla

সৌদি আরবের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে অনুমতি দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন, দাবি সিএনএনের

সৌদি আরবের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিতে অনুমোদন দিতে যাচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা ঠেকাতে প্রচলিত সুরক্ষাব্যবস্থা রাখা হয়নি বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সিএনএন জানায়, তাদের হাতে আসা খসড়া চুক্তি অনুযায়ী, সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন এখন শুধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায়। যদিও এ বিষয়ে ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যে আলোচনা গত অক্টোবরেই শেষ হয়েছে।

প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, বাধ্যতামূলক ‘১২৩ চুক্তি’ এবং সংশ্লিষ্ট সুরক্ষাবিষয়ক প্রোটোকলসহ প্রয়োজনীয় নথি এখনো কংগ্রেসে পাঠানো হয়নি। তাদের ধারণা, সম্ভাব্য দ্বিদলীয় বিরোধিতার আশঙ্কায় প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিচ্ছে। একই সঙ্গে নভেম্বরের নির্বাচনের পর কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রতিষ্ঠিত হলে ট্রাম্পের নীতিগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন আরও কঠিন হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দীর্ঘদিন ধরেই এমন একটি চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন, যা দেশটিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেবে। সৌদি আরবের দাবি, তাদের দেশে ইউরেনিয়ামের বড় মজুত রয়েছে। গত বছর দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান বলেছিলেন, ‘আমরা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করব, আমরা তা বিক্রি করব এবং আমরা ইয়েলোকেক উৎপাদন করব।’ ইয়েলোকেক হলো খনি থেকে উত্তোলিত ইউরেনিয়ামের সমৃদ্ধকরণের আগের ধাপের একটি প্রক্রিয়া।

গত বছরের নভেম্বরে সৌদি যুবরাজের হোয়াইট হাউস সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সুরক্ষা ছাতার আওতায় সৌদি আরবকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি অন্যতম আলোচ্য ছিল। এর আগে বছরের শুরুতে কাতারে হামাসের আলোচক দলের ওপর ইসরায়েলের হামলার কয়েক দিনের মধ্যেই সৌদি আরব পাকিস্তানের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে। পাকিস্তান মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র।

ধারণা করা হয়, পাকিস্তানের কাছে প্রায় ১৭০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। সৌদি আরব ও পাকিস্তান উভয় দেশই জানিয়েছিল, তাদের প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সামরিক সহযোগিতার সব ধরনের বিকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক আলোচনা কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে পরিচালিত হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইকে যুক্তরাষ্ট্রের এক সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সুরক্ষার আওতায় আনার পেছনে কৌশলগত উদ্দেশ্য রয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘এর ফলে সৌদি আরব পাকিস্তানের পারমাণবিক ছাতার বাইরে চলে আসবে এবং সৌদিরা নিজেদের কাতারের চেয়েও নিরাপদ মনে করবে।’

গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসকে জানায়, তারা সৌদি আরবের সঙ্গে একটি বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তির দিকে এগোচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এতে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত যেসব সুরক্ষাব্যবস্থা আরোপ করে, সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। একই সঙ্গে চুক্তির ভাষায় ভবিষ্যতে সৌদি আরবের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগও খোলা রাখা হয়েছে।

চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে ‘অতিরিক্ত সুরক্ষাব্যবস্থা ও যাচাই-বাছাইয়ের ব্যবস্থা’ প্রয়োগ করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা থেকে স্পষ্টভাবে বিরত না রেখে যদি এই চুক্তি কার্যকর হয়, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তাদের মতে, এর প্রভাব সৌদি আরবকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির উদ্যোগের চেয়েও বেশি হতে পারে।

এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিতে শর্ত ছিল, দেশটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করবে না এবং ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াকরণও করবে না।

সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরক্কো এবং ইউরোপ ও এশিয়ার কয়েক ডজন দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘১২৩ চুক্তি’ সই করেছে। মার্কিন আইন অনুযায়ী, কোনো দেশে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পারমাণবিক উপাদান বা সরঞ্জাম রপ্তানির আগে এমন একটি চুক্তি কার্যকর থাকা প্রয়োজন।

এ ছাড়া মার্কিন আইনপ্রণেতারা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবকে ‘অ্যাডিশনাল প্রোটোকল’ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে আসছেন। এই ব্যবস্থার আওতায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা সৌদি আরবের পারমাণবিক স্থাপনা, তথ্য এবং ঘোষণাবহির্ভূত স্থানে অতিরিক্ত পরিদর্শনের সুযোগ পাবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সঙ্গে চুক্তির অংশ হিসেবে এই প্রোটোকলে স্বাক্ষর করেছিল। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন গত নভেম্বরে কংগ্রেসের কয়েকটি কমিটির প্রধানের কাছে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন পাঠায়। আইন অনুযায়ী, অ্যাডিশনাল প্রোটোকল অনুসরণ না করলে এমন প্রতিবেদন পাঠানো বাধ্যতামূলক।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তাঁর কূটনৈতিক নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চুক্তিভিত্তিক সমঝোতাকে স্থান দিচ্ছেন। প্রয়োজন হলে এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনৈতিক অবস্থানের সঙ্গেও ভিন্ন পথে হাঁটতে তিনি প্রস্তুত।

This post was viewed: 2

আরো পড়ুন