রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর তাকে কোনোভাবেই ‘সেফ এক্সিট’ দেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, এনসিপি শুরু থেকেই তার পদত্যাগ ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আসছিল।
শুক্রবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জুলাই যুব কনভেনশন-২০২৬’-এ বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এনসিপির যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তি এ কনভেনশনের আয়োজন করে।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এ ইস্যুতে দলটি ‘গাধাসুলভ আচরণ’ করেছে। তার ভাষ্য, ‘গাধা যেমন জল ঘোলা করে পানি খায়, বিএনপিও তেমনি দেরিতে এ বিষয়ে অবস্থান নিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হিসেবে সাহাবুদ্দিন দায় এড়াতে পারেন না। সে সময় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকলেও ছাত্র-জনতার পক্ষে কোনো অবস্থান নেননি। তাই তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে দ্রুত গ্রেপ্তার করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কনভেনশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন সাহাবুদ্দিনকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তার বিচারের দাবি জানান।
এদিকে জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলাম বিএনপির প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও গত পাঁচ মাসে দলটি নিজ দলের কর্মীদের জন্য চাঁদাবাজির সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে এনসিপি ৪০ লাখ বেকারকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে নামবে এবং সরকারের পতন ঘটাবে। তার দাবি, সেই পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা ফিরে এলে তার দায়ও বর্তমান সরকারের ওপরই বর্তাবে।
তারিকুল ইসলাম আরও বলেন, বিএনপিকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব এনসিপির নয়। জনগণের কল্যাণে কাজ ও সুস্থ রাজনীতি করেই দলটিকে ক্ষমতায় টিকে থাকতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, যুব কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে গাড়ির পেছনে দৌড়ানোর মতো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হচ্ছে। তার অভিযোগ, বিএনপি নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের মতো হলেই কেবল কর্মসংস্থানের সুযোগ দিচ্ছে।
কনভেনশনে নারী শক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিনসহ এনসিপি, জাতীয় যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় এবং মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।