রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত অন্তঃসত্ত্বা স্কুলশিক্ষিকা সুমতি চাকমার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে নিহত শিক্ষিকার ৮ বছর বয়সী একমাত্র মেয়ে প্রাপ্তি চাকমার দায়িত্ব গ্রহণ করেন ২৭ বিজিবি জোনের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ।
সাজেক জোন কার্যালয়ে প্রাপ্তি চাকমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জোন কমান্ডার তাকে সান্ত্বনা দেন। এ সময় তিনি শিশুটিকে বুকে জড়িয়ে ধরে পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, ‘একটি দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে মায়ের কোল, কিন্তু আমরা এই পরিবারটিকে একা হতে দেব না।’ তিনি জানান, ভবিষ্যতেও বিজিবি পরিবারটির পাশে থাকবে এবং প্রাপ্তি চাকমার শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
এ সময় বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান, সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা, ইউপি সদস্য বনবিহারী চাকমাসহ নিহত শিক্ষিকার স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা বলেন, ‘দুর্ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক, তবে বিজিবি যেভাবে ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং শিশুটির ভবিষ্যৎ দেখভালের আশ্বাস দিয়েছে, তা পাহাড়ে সম্প্রীতি ও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, বিজিবির এই সহমর্মিতা ও সহযোগিতার আশ্বাস প্রাপ্তি চাকমার ভবিষ্যৎ পথচলাকে কিছুটা হলেও সহজ করবে এবং তাকে নতুন করে এগিয়ে চলার সাহস জোগাবে।
গত শনিবার সাজেক-মাচলং সড়কে বিজিবির একটি ট্রাক ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অন্তঃসত্ত্বা স্কুলশিক্ষিকা সুমতি চাকমা নিহত হন এবং তার ৮ বছর বয়সী মেয়ে মাতৃহারা হয়। দুর্ঘটনার পর বিজিবি পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয়।