Skip to main content

Ridge Bangla

শিশুকে কোন টিকা কখন দেবেন?

একটি সুস্থ ও সবল জাতি গঠনের প্রধান শর্ত হলো শিশুদের শারীরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। আর এই সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হলো সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় টিকা প্রদান। বাংলাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) বর্তমানে শিশুদের ১০টি মারাত্মক রোগ থেকে সুরক্ষা দিচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে হামসহ কিছু রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের নিয়মিত টিকার পাশাপাশি বিশেষ ডোজের বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বড়দের তুলনায় অনেক কম থাকে। যক্ষ্মা, পোলিও, ধনুষ্টঙ্কার, হেপাটাইটিস-বি, হাম ও রুবেলার মতো রোগগুলো শিশুদের জন্য প্রাণনাশী হতে পারে। নিয়মিত টিকাদানের মাধ্যমে এই ঝুঁকি প্রায় শতভাগ কমানো সম্ভব। সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, শিশুর জন্মের পর থেকে নির্দিষ্ট বিরতিতে টিকাগুলো সম্পন্ন করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের শারীরিক জটিলতা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

জন্মের পরপরই শিশুদের বিসিজি (যক্ষ্মা) টিকা দেওয়া হয়। এরপর ৬, ১০ ও ১৪ সপ্তাহে পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা (ডিপথেরিয়া, ধনুষ্টঙ্কার, হুপিং কাশি, হেপাটাইটিস-বি, হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা) এবং ওপিভি (পোলিও) ও পিসিভি (নিউমোনিয়া) প্রতিরোধক দেওয়া হয়। এ ছাড়া ৬ ও ১৪ সপ্তাহ বয়সে ইনজেকটেবল পোলিও (এফআইপিভি) প্রদান করা হয়।

৯ ও ১৫ মাসে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে দুই ডোজ এমআর এবং টাইফয়েডের জন্য ৯ মাসে এক ডোজ টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।

মেয়েদের জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের টিকা দেওয়া হয়। বাংলাদেশে নারীদের মধ্যে এই ক্যানসারে মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি। সময়মতো এর টিকা নিয়ে ভবিষ্যতে জরায়ুমুখ ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় শতভাগ কমানো সম্ভব।

দেশে প্রজননযোগ্য নারীদের ধনুষ্টঙ্কার বা টিটেনাস থেকে সুরক্ষার জন্য ৫ ডোজ টিকা দেওয়া হয়। এই টিকা মা ও ভবিষ্যৎ সন্তান দুজনকেই প্রাণনাশী ধনুষ্টঙ্কার থেকে রক্ষা করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো কারণে যদি শিশুর নিয়মিত টিকার ডোজ মিস হয়ে যায়, তবে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা টিকাদান কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের পরেও কিছু টিকা দেওয়া সম্ভব, যা শিশুকে সুরক্ষা দিতে পারে।

This post was viewed: 43

আরো পড়ুন