Ridge Bangla

শিক্ষার্থী আন্দোলন নিয়ে বলিউডের নীরবতায় নাসিরুদ্দিন শাহ: ‘মুখে হাড় থাকলে কুকুর ঘেউ ঘেউ করতে পারে না’

ভারতে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনে দমন-পীড়নের ঘটনায় বলিউডের অনেক তারকার নীরবতা নিয়ে মন্তব্য করেছেন প্রবীণ অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। তার ভাষায়, মুখে হাড় থাকলে কুকুর ঘেউ ঘেউ করতে পারে না। বিবেকের তাড়না জাগলেই নীরব থাকা ব্যক্তিরা মুখ খুলবেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারে গত এক সপ্তাহ ধরে আলোচিত শিক্ষার্থী আন্দোলনের বিষয়ে বলিউডের শীর্ষ তারকাদের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নাসিরুদ্দিন শাহ রসিকতার সুরে বলেন, ‘তাদের বিবেক যখন বলবে, তখন তারা কথা বলবে। কথায় আছে- মুখে হাড় থাকলে কুকুর ঘেউ ঘেউ করতে পারে না। যখন সেই হাড় মুখ থেকে পড়ে যাবে, অথবা হাড়ে তাদের দাঁত ভেঙে যাবে, তখন তারা ঘেউ ঘেউ করবে।’

মানুষ নিজেদের স্বার্থে নীরব থাকছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই।’

এরপর তিনি যোগ করেন, ‘কিন্তু তারা কত দিন এভাবে চলতে পারবে? সময়ই তার উত্তর দেবে।’

একই দিন শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে এবং তাদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের নিন্দা জানিয়ে একটি ভিডিও বার্তাও প্রকাশ করেন নাসিরুদ্দিন শাহ।

ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের সবাইকে দুটি কথা বলতে চাই। প্রথম কথা হলো, যদি একজন অশিক্ষিত ব্যক্তি এই দেশের নেতৃত্ব দেয়, তাহলে সে চাইবে পুরো দেশও তার মতো অজ্ঞ, বোধহীন ও নির্মম হয়ে উঠুক।’

তিনি আরও বলেন, ‘ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা এবং ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া থেকে অভিনয়ের দুটি মর্যাদাপূর্ণ কোর্স সম্পন্ন করার পরও আমি অভিনয় সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি শিখেছি সেই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে, যাদের আমি শেখানোর চেষ্টা করেছি।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি নিজের সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল। আমি আবেগাপ্লুত, একই সঙ্গে তরুণদের ওপর যেভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে, তা দেখে আমার রক্ত গরম হয়ে ওঠে। এসব লোকজন আমাকে যুক্তরাষ্ট্রের মুখোশধারী এজেন্টদের কথা মনে করিয়ে দেয়। আপনারা নিজেদের সন্তানদের কথাও ভাবুন। একদিন আপনাদেরও নিজেদের কাজের ফল ভোগ করতে হবে।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কখনো নিজেদের সন্তানদের কথাও ভাবুন। এটাও ভাবুন, একদিন আপনাদেরও একই পরিণতির মুখোমুখি হতে হতে পারে। আমি এই সব শিক্ষার্থীকে বলতে চাই, আশা হারিয়ো না। অনেক মানুষ তোমাদের প্রতি সহানুভূতিশীল। অনেক মানুষ তোমাদের পাশে আছে। লড়াই চালিয়ে যাও। আমি সব সময় দেশের তরুণদের কাছ থেকে অনেক কিছু প্রত্যাশা করেছি। এখন তাদের প্রতি আমার আস্থা আরও বেড়েছে। সরকারকেও আমি বলতে চাই- সব কথা মনে রাখা হবে।’

এদিকে গত দুই দিনে চলচ্চিত্র অঙ্গনের আরও কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তিত্ব আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন রত্না পাঠক শাহ, সোনু সুদ, দিয়া মির্জা, শাবানা আজমি, স্বরা ভাস্কর, প্রকাশ রাজ, দিলজিৎ দোসাঞ্জ, রিতেশ দেশমুখ, বীর দাস, জেনেলিয়া দেশমুখ, রিচা চাড্ডা, সোনাক্ষী সিনহা, বরুণ গ্রোভার, অনুরাগ কাশ্যপ, বাসান বালা, সীমা পাহওয়া, রাজকুমার রাও, সৌম্য ট্যান্ডন এবং আয়ুষ শর্মা।

গত মাসে ককরোচ জনতা পার্টি যন্তর মন্তরে আন্দোলন শুরু করলে, শিক্ষাবিদ ও পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুকের অনির্দিষ্টকালের অনশন কর্মসূচির পর আন্দোলনে নতুন গতি আসে। বর্তমানে তার অনশন ২৫তম দিনে পৌঁছেছে।

সোমবার সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা শিক্ষার্থীরা নয়াদিল্লিতে জড়ো হয়ে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা করেন। দিল্লি পুলিশ বলপ্রয়োগ করে মিছিল থামানোর চেষ্টা করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সংলাপের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষা প্রক্রিয়ার বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগও দাবি করছেন।

This post was viewed: 2

আরো পড়ুন