শত্রুপক্ষ ‘সম্পূর্ণভাবে পরাজিত’ না হওয়া পর্যন্ত ইরানের লক্ষ্যভিত্তিক ও ধারাবাহিক হামলা অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর বরাতে জানানো হয়েছে, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব বলেছেন, ইরানি বাহিনীর নির্ভুল হামলা অব্যাহত থাকবে। মিনাবে নিহত নিরীহ শিশুদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়া এবং শত্রুর বিরুদ্ধে পূর্ণ বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান চলবে।
তিনি বলেন, ‘শত্রু সম্পূর্ণভাবে পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত এবং নিরপরাধ শিশুদের রক্তের প্রতিশোধ না নেওয়া পর্যন্ত আমাদের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।’
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা চারটি জাহাজকে গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশ দিয়ে ‘অবৈধ ও অনিরাপদ’ পথে চলাচলের চেষ্টা করছিল চারটি জাহাজ। সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ার পর নৌবাহিনী সেগুলোকে থামিয়ে দেয় এবং পরে জাহাজগুলো নিজেদের গতিপথ পরিবর্তন করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় চারটি জাহাজকে সতর্ক করার পর তাদের গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়েছে।
তবে জাহাজগুলোর নাম, কোন দেশের পতাকাবাহী ছিল কিংবা সেগুলোর ধরন সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে পদক্ষেপ নিয়েছে ইরান। বিশ্লেষকদের ধারণা, জাহাজগুলোকে নিজেদের জলসীমা ব্যবহার করতে বাধ্য করা এবং নিরাপদ চলাচলের বিনিময়ে অর্থ আদায়ে চাপ সৃষ্টি করতেই তেহরান এ ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।