Ridge Bangla

লোহিত সাগরে সৌদি দুই তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার দাবি হুথিদের, ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলা

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার দাবি করেছে। একই সময়ে ইরানের সামরিক স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

দুবাই থেকে বার্তা সংস্থা এএফপির পাঠানো খবরে বলা হয়, বুধবার হুথিরা দাবি করে, অবরোধ অমান্য করায় ‘এনসেলিয়া’ ও ‘লায়লা’ নামের দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

ব্রিটিশ নৌ নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, আল শুকাইকের দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে একটি ট্যাংকারের ক্যাপ্টেন অজ্ঞাত একটি বস্তুর আঘাতের তথ্য দিয়েছেন। এতে জাহাজে আগুন ধরে যায় এবং নাবিকরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন।

সৌদি বন্দরগুলো অবরোধের হুমকির পর লোহিত সাগরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো আগে থেকেই চাপের মুখে রয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালীতে কোনো জাহাজে হামলা হলে তার জবাবে ইরানের একটি করে সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করা হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লিখেছেন, “হরমুজ প্রণালীতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান যখনই কোনো জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট, ড্রোন বা অন্য কোনো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালাবে, তখনই যুক্তরাষ্ট্র একটি করে সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমা হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করবে।”

এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, দেশের অবকাঠামোর ওপর যেকোনো হামলার পাল্টা জবাব একইভাবে দেওয়া হবে।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আমাদের প্রতিরক্ষা নীতি স্পষ্ট। চোখের বদলে চোখ। ইরানের বিরুদ্ধে, আমাদের অবকাঠামোসহ যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে শক্তিশালী ও সিদ্ধান্তমূলক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।”

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন হুমকি যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত করবে।

হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া প্রাথমিক সমঝোতাও ভেঙে পড়েছে। তেহরান আবারও অবরোধ কার্যকর করেছে এবং প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করা জাহাজের ওপর গুলি চালানো হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। মঙ্গলবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, এ পর্যন্ত এ যুদ্ধের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। মে মাসের মাঝামাঝিতে এ ব্যয় ছিল প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার।

চার মার্কিন সেনাসদস্যের মরদেহ গ্রহণের উদ্দেশ্যে একটি বিমানঘাঁটিতে যাওয়ার পথে ট্রাম্প যুদ্ধবিরোধী জনমত জরিপের সমালোচনা করেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন জর্ডানে একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় এবং আরেকজন ইরাকে অবিস্ফোরিত একটি ইরানি ড্রোন নিয়ন্ত্রিতভাবে ধ্বংস করার সময় নিহত হন।

ট্রাম্প বলেন, “মার্কিনরা জ্বালানির উচ্চমূল্য চায় না। তবে তারা যুদ্ধের বিরোধীও নয়।”

চলমান উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বুধবার সাময়িকভাবে প্রতি ব্যারেল ৯৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা প্রায় ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। পরে কিছুটা কমলেও দিনের শেষে অপরিশোধিত ফিউচার তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেশি ছিল।

এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, বুধবার গ্রিনিচ সময় রাত ৯টা ৩০ মিনিটে ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সর্বশেষ হামলা শুরু হয়। তাদের দাবি, আঞ্চলিক জলসীমায় চলাচলকারী বেসামরিক নাবিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হুমকি সৃষ্টি করার সক্ষমতা আরও দুর্বল করাই ছিল এ অভিযানের উদ্দেশ্য।

This post was viewed: 5

আরো পড়ুন