ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় সোমবার ভোরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এ হামলায় বিভিন্ন স্থানে আগুন লাগে এবং অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন বলে ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে কিয়েভ ও এর আশপাশে এটি রাশিয়ার দ্বিতীয় হামলা। চার বছরের বেশি সময় ধরে চলমান যুদ্ধের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষই দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে, যা সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এএফপির এক সাংবাদিক জানান, সোমবার ভোরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা জারির পর কিয়েভে ১০টির বেশি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। প্রায় ৩০ মিনিট পর আকাশে একাধিক আলোর ঝলকানি দেখা যায়। একই সময়ে আরও কয়েক দফা বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে বলেন, ‘ রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালাচ্ছে।’
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, শহরের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। তিনি বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করার আহ্বান জানান।
কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর মিকোলা কালাশনিক টেলিগ্রামে বলেন, ‘রাশিয়ার হামলায় কিয়েভ অঞ্চলে আট জন আহত হয়েছেন।’
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে ৫ জন কিয়েভে এবং রাজধানীর উত্তর-পশ্চিমের শহর বুচায় আরও ৩ জন রয়েছেন। আহত সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনও রাশিয়ার অভ্যন্তরে, বিশেষ করে মস্কোর নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা জোরদার করেছে। ইউক্রেনের লক্ষ্য রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়া।
রাশিয়ার অধিভুক্ত ক্রিমিয়ার গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ জানিয়েছেন, সেভাস্তোপলের কাছে ইউক্রেনের এক হামলার পর বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি টেলিগ্রামে লিখেছেন, ‘সেভাস্তোপলের কাছে জ্বালানি অবকাঠামোতে শত্রুপক্ষের হামলার পর আমাদের শহর সাময়িকভাবে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন রাষ্ট্রীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ম্যাক্স-এ জানিয়েছেন, রাজধানী মস্কোর দিকে আসা ইউক্রেনের একাধিক ড্রোন রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে।