Skip to main content

Ridge Bangla

যৌন হয়রানির অভিযোগে আইসিসির প্রসিকিউটর করিম খানকে অপসারণ

যৌন হয়রানির অভিযোগের জেরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউটর করিম খানকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। গত জুনে গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার পর এবার সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভোটে তাকে স্থায়ীভাবে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার প্রায় দুই বছর পর শুক্রবার আইসিসির সদস্য রাষ্ট্রগুলো ব্রিটিশ এই প্রসিকিউটরকে অপসারণের পক্ষে ভোট দেয়। ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ইতিহাসে নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বিশেষ অধিবেশনে আদালতের ১২৫টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ৮২টি রাষ্ট্র করিম খানকে অপসারণের পক্ষে ভোট দেয়।

আইসিসির এক নারী কর্মীর করা যৌন হয়রানির অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে দীর্ঘ শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শেষে এ ভোট অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, করিম খান দীর্ঘ সময় ধরে জবরদস্তিমূলক ও অসম্মতিমূলক যৌন আচরণে জড়িত ছিলেন।

তবে করিম খান শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার আইনজীবীরা পুরো শাস্তিমূলক প্রক্রিয়াকে পদ্ধতিগতভাবে অন্যায্য বলে দাবি করেছেন। তাদের বক্তব্য, সম্ভাব্য সব আইনগত উপায়ে এ সিদ্ধান্তের বৈধতা ও ন্যায্যতাকে চ্যালেঞ্জ জানানো হবে।

ব্রিটিশ আইনজীবী করিম খান ২০২১ সালে নয় বছরের মেয়াদে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। এই বিভাগের দায়িত্ব মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং গণহত্যার মতো গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের অভিযোগ তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া পরিচালনা করা।

দায়িত্ব পালনকালে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার অপসারণের ফলে ইতোমধ্যে জারি করা এসব গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না।

গত মাসে আইসিসির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী কমিটি যৌন হয়রানির অভিযোগকে গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে বিবেচনা করে করিম খানকে সাময়িক বরখাস্ত করে। একই সঙ্গে তাকে স্থায়ীভাবে অপসারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বিষয়টি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পরিষদের কাছে পাঠানো হয়।

২০২৪ সালে অভিযোগগুলো প্রথম প্রকাশ্যে আসে। সে সময় করিম খানের আইনজীবীরা দাবি করেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এ অভিযোগ আনা হয়েছে।

সর্বশেষ এক বিবৃতিতে তার আইনজীবী তাইয়াব আলী বলেন, করিম খানকে এমন একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপসারণ করা হয়েছে, যেখানে তাকে ন্যায্যভাবে নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তার দাবি, এ সিদ্ধান্ত কোনো আইনসম্মত বা যথাযথ অনুসন্ধানের ভিত্তিতে নেওয়া হয়নি।

This post was viewed: 2

আরো পড়ুন