Skip to main content

Ridge Bangla

যৌথ হামলায় ইসরায়েলের জ্বালানি অবকাঠামো অচল হতে পারে, সতর্ক করল গবেষণা প্রতিষ্ঠান

ইরান ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ সমন্বিত হামলা চালালে ইসরায়েলের জ্বালানি ও সমুদ্রভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির গবেষণা প্রতিষ্ঠান আলমা রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন সেন্টার। তাদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে যেতে পারে।

গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, হাইফা উপসাগর, ভূমধ্যসাগরের গ্যাসক্ষেত্র, সমুদ্রবন্দর এবং বেসামরিক জাহাজ চলাচলের ওপর একযোগে হামলা হলে ইসরায়েলের জ্বালানি সরবরাহ, বিশুদ্ধ পানি উৎপাদন এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, চালকবিহীন উড়োজাহাজ, জাহাজবিধ্বংসী অস্ত্র, বিস্ফোরকবোঝাই নৌযান, পানির নিচে হামলার সক্ষমতা এবং বিশেষ কমান্ডো ইউনিট ব্যবহার করে সমন্বিত হামলা চালানোর সক্ষমতা ইরান ও হিজবুল্লাহর রয়েছে। যদিও এসব হুমকি মোকাবিলায় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, তবুও একযোগে হামলা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৭০ শতাংশের বেশি আসে ভূমধ্যসাগরের উপকূলীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উত্তোলিত প্রাকৃতিক গ্যাসের মাধ্যমে। পাশাপাশি দেশটির অর্ধেকের বেশি পানির চাহিদা পূরণ হয় সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করার কেন্দ্রগুলো থেকে। ফলে এসব স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হলে বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

আলমা রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন সেন্টারের মতে, সামরিক সক্ষমতা আগের তুলনায় কমে গেলেও হিজবুল্লাহ এখনো ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে। বিশেষ করে উপকূলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট এবং নৌ সক্ষমতাকে এখনো সক্রিয় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে ২০২২ সালের জুলাইয়ে কারিশ গ্যাসক্ষেত্রে হিজবুল্লাহর চালকবিহীন উড়োজাহাজ হামলার চেষ্টার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সে সময় ইসরায়েলি বাহিনী তিনটি চালকবিহীন উড়োজাহাজ ভূপাতিত করলেও ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছিল।

সম্ভাব্য সমন্বিত হামলা মোকাবিলায় ইসরায়েল ইতোমধ্যে বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। সমুদ্রে মোতায়েন করা সা’আর-৬ যুদ্ধজাহাজে দূরপাল্লার বারাক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি সমুদ্রবন্দরগুলো আয়রন ডোম, ডেভিডস স্লিং, অ্যারো-২ এবং অ্যারো-৩ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। ভবিষ্যতে চালকবিহীন উড়োজাহাজ মোকাবিলায় লেজারভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ ছাড়া কৌশলগত সামুদ্রিক স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদারে ইসরায়েলি নৌবাহিনী চালকবিহীন পানির নিচের যান ব্যবহার শুরু করেছে।

তবে আলমা রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন সেন্টার বলছে, নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অনেকগুলোই এখনো বাস্তব সমন্বিত হামলার মুখে পরীক্ষা করা হয়নি। একই সময়ে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, চালকবিহীন উড়োজাহাজ, জাহাজবিধ্বংসী অস্ত্র, বিস্ফোরক নৌযান এবং ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের সমন্বয়ে হামলা হলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

প্রতিবেদনটিতে সাইবার হামলার ঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অতীতে ইরান ও তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো জ্বালানি কোম্পানি, বিমানবন্দর, ব্যাংক এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে সাইবার হামলার দাবি করেছে। একই ধরনের হামলা হলে ইসরায়েলের বিদ্যুৎ সরবরাহ, বন্দর পরিচালনা, জাহাজ চলাচল, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অবস্থান নির্ধারণ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা ব্যাহত হতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও ইরান ও হিজবুল্লাহর সম্ভাব্য যৌথ হামলার ঝুঁকিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।

This post was viewed: 3

আরো পড়ুন