Skip to main content

Ridge Bangla

যেভাবে মিয়ানমারের ‘স্ক্যাম কারখানা’ পরিচালনা করে আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্র

মিয়ানমার-থাইল্যান্ড সীমান্তসংলগ্ন কে কে পার্ককে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণার একটি বিশাল নেটওয়ার্ক। ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে তরুণ-তরুণীদের সেখানে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক কাজ করানো হচ্ছে বলে উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উন্নত জীবনের আশায় আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে থাইল্যান্ডে যাওয়া অনেক তরুণ ব্যাংককে পৌঁছানোর পর প্রতারণার শিকার হন। সেখান থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তাদের থাইল্যান্ডের সীমান্ত শহর মে সটে নেওয়া হয়। পরে সশস্ত্র পাহারায় সীমান্ত পেরিয়ে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী নিয়ন্ত্রিত কে কে পার্কে আটকে রাখা হয়।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, মিয়ানমারের বিভিন্ন প্রতারণাকেন্দ্রে বর্তমানে ১ লাখের বেশি মানুষকে জোর করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হয়েছে।

সেখান থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্দিদের প্রতিদিন টানা ১৭ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হয়। বিশ্রাম বা ছুটির দাবি করলে তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। যারা যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও চীনের নাগরিকদের প্রতারণার কাজে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানান, তাদের অনাহারে রাখা, নির্যাতন করা এবং প্রকাশ্যে হত্যার মতো ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ডয়চে ভেলের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, কে কে পার্কের নিরাপত্তা দেখভাল করে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের সহযোগী সাবেক বিদ্রোহী গোষ্ঠী বর্ডার গার্ড ফোর্স। তবে পুরো প্রতারণা চক্রের মূল নিয়ন্ত্রণ রয়েছে চীনা মাফিয়া গোষ্ঠীর হাতে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে শত শত কোটি ডলার অবৈধভাবে লেনদেন করা হচ্ছে। আর্থিক নেটওয়ার্ক বিশ্লেষণে এসব লেনদেনের সঙ্গে থাইল্যান্ডভিত্তিক চীনা ব্যবসায়ী ওয়াং ই চেংয়ের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি একটি কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সংগঠনের পদ ব্যবহার করে এ কার্যক্রম আড়াল করার চেষ্টা করেছেন।

অনুসন্ধানে আরও দাবি করা হয়েছে, ওয়াং ই চেংয়ের যোগাযোগ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত চীনা মাফিয়া নেতা ওয়ান কুওক কোই, যিনি ‘ব্রোকেন টুথ’ নামে পরিচিত। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কেন্দ্রের আড়ালে তিনি নিজের অপরাধচক্র পরিচালনা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মার্কিন ইনস্টিটিউট অব পিসের বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব মাফিয়া চক্র নিজেদের স্বার্থে চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এর নাম ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রভাব বিস্তার করছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অভিযান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি সত্ত্বেও এই অপরাধচক্র আফ্রিকা, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে চলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

This post was viewed: 1

আরো পড়ুন