যুদ্ধবিরতির সময়কে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে শত্রুপক্ষের যেকোনো ‘ভুল পদক্ষেপের’ জবাবে কঠোর ও চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তেহরান।
ইরানের সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেছেন, যুদ্ধবিরতি মানে প্রস্তুতিতে কোনো শিথিলতা নয়। বরং এই সময়কে কাজে লাগিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘সামরিক শক্তি বৃদ্ধির এই সুযোগ আমরা এক মুহূর্তের জন্যও নষ্ট করবো না কিংবা এ বিষয়ে কোনো ধরনের অবহেলা দেখাব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘শত্রুরা যদি কোনো ভুল করে, তাহলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে তারা অবশ্যই বিধ্বংসী ও চূড়ান্ত জবাবের মুখোমুখি হবে।’
সাম্প্রতিক সংঘাতের পর দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও উত্তেজনা এখনো প্রশমিত হয়নি। ভবিষ্যতে আবারও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই তেহরান সামরিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং বেসামরিক স্থাপনায় হাজারো বিমান হামলা চালায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, এসব হামলায় দেশটিতে ৩ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে। পরে পরিস্থিতি দ্রুত পূর্ণাঙ্গ সামরিক সংঘাতে রূপ নেয়। যদিও বর্তমানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবু উভয় পক্ষই নিজেদের সামরিক প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে এবং কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি সামরিক ক্ষেত্রেও সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে।