ভারতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে গভীর রাতে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিডিও বার্তার পর ২৭ দিনের অনশন প্রত্যাহার করেছেন পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। বর্তমানে তিনি গুরুগ্রামের মেদান্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংহের উপস্থিতিতে তিনি অনশন ভাঙেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ২ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন নরেন্দ্র মোদি। সেখানে তিনি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে শুক্রবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা হবে।
ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, ‘প্রশ্নফাঁস কোনো সাধারণ বিষয় নয়। লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের জন্য এটি কষ্টদায়ক। এই কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে আড়াই মাসে সরকারের তরফে অনেক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। দোষীদের গ্রেপ্তার করে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের যাতে এক বছর নষ্ট না হয় তাই দ্বিতীয়বার পরীক্ষার ব্যবস্থাও করা হয়। ২২ লাখ পরীক্ষার্থী সেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। ইতিমধ্যে ফলাফলও প্রকাশিত হয়েছে। এর ফলে অনেকেই খুশি তবে সরকার এখনও সন্তুষ্ট নয়। অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দেয়ার লক্ষ্যে দপ্তরকে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট দপ্তর ফাস্ট ট্র্যাক আদালত সংক্রান্ত খসড়া জমা দিয়েছে। শুক্রবার এই বিষয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হবে। তার পরে নেয়া হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।’
প্রধানমন্ত্রী আরও দাবি করেন, সোমবার থেকে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনেই সংশ্লিষ্ট খসড়া বিল পাসের চেষ্টা করা হবে। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আগামীকাল মন্ত্রিসভায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
এই ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার রাতেই হাসপাতালের শয্যায় বসে অনশন প্রত্যাহার করেন সোনম ওয়াংচুক। সে সময় তার স্ত্রী গীতাঞ্জলি জৈন আংমো উপস্থিত ছিলেন। হাসপাতালে যান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংহও। অনশন ভাঙার পর উপস্থিত ব্যক্তিরা তাকে উত্তরীয় পরিয়ে সম্মান জানান।
সোনম ওয়াংচুক অনশন প্রত্যাহারের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেকটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি সোনম ওয়াংচুককে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানান এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে আগের স্বাস্থ্য ও ওজন ফিরে পাওয়ার শুভকামনা জানান।
উল্লেখ্য, নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসসহ একাধিক ইস্যুতে শুরু হওয়া আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। এই দাবিতে রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টি। পরীক্ষার্থী ও শিক্ষার্থীরাও সেই আন্দোলনে অংশ নেন। আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে জুনের ২৮ তারিখ থেকে যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেন সোনম ওয়াংচুক। তার অনশন আন্দোলনে নতুন গতি এনে দেয়।