তিব্বতের নির্বাসিত আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা ঘোষণা দিয়েছেন, মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি কে হবেন তা তিনি নিজেই নির্ধারণ করেছেন। প্রায় ৬০০ বছরের পুরনো এই বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটলো এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে।
বুধবার (২ জুলাই) এক ভিডিও বার্তায় দালাই লামা বলেন, “উত্তরসূরি নির্ধারণের পূর্ণ ক্ষমতা আমার প্রতিষ্ঠিত ট্রাস্টের কাছে রয়েছে। এতে বাইরের কারো হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই।” তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এই সিদ্ধান্তের বৈধতা ধর্মীয় ও ঐতিহাসিকভাবেই প্রতিষ্ঠিত।
তিব্বতি বৌদ্ধ ধর্মমতে, দালাই লামারা মৃত্যুর পর পুনর্জন্মের মাধ্যমে পৃথিবীতে ফিরে আসেন। কিন্তু ১৯৫০ সালের দিকে চীনের তিব্বত দখলের পর বর্তমান দালাই লামা ভারতে নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন। ফলে উত্তরসূরি নির্ধারণের বিষয়টি এক জটিল রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে।
চীন সরকার দালাই লামার ঘোষণাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। বেইজিং বলছে, পরবর্তী দালাই লামা চীনের ভূখণ্ড থেকেই নির্বাচন করা হবে এবং এতে চীনা সরকারের অনুমোদন ছাড়া কাউকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না।
এই বিপরীতমুখী অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, উত্তরসূরি নির্বাচন কেবল একটি ধর্মীয় বিষয় নয়, এটি এখন ভূ-রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।