যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ার গাড়ি দুর্ঘটনায় মাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন আঠারো বছর বয়সী ভারতীয় কিশোর রোমাঞ্চ মহাজন। বুধবারের এ দুর্ঘটনায় তার পরিবারের অন্য সদস্যরা অল্পের জন্য বেঁচে যান।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবারের সঙ্গে প্রথমবারের মতো নিউইয়র্কে বেড়াতে গিয়েছিলেন রোমাঞ্চ। সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ার গাড়িতে ওঠার পর পরিবারের ছবি তোলার জন্য চালক গাড়িটি থামান। এ সময় হঠাৎ ঘোড়াটি ভয় পেয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুত ছুটতে শুরু করে।
রোমাঞ্চের বাবা দীপক মহাজন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পরিবারের সদস্যরা একে অপরকে ধরে থাকার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তার স্ত্রী প্রিয়া মহাজন গাড়ি থেকে ছিটকে পড়ে গেলে তাকে বাঁচাতে রোমাঞ্চও গাড়ি থেকে লাফ দেন।
দীপক মহাজন বলেন, ‘আমার ছেলে শুধু তার মাকে বাঁচানোর জন্যই গাড়ি থেকে পড়ে যায়। সে বারবার ‘মা, মা’ বলে চিৎকার করছিল।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভয় পাওয়া ঘোড়াটি প্রচণ্ড গতিতে ছুটছিল। পরে একজন সেটিকে ধীর করতে সক্ষম হলেও তার আগেই গাড়িটি উল্টে যায়।
দুর্ঘটনায় রোমাঞ্চ মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরে তাকে দ্রুত নিউইয়র্ক-প্রেসবাইটেরিয়ান ওয়েইল কর্নেল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে বুধবার রাতেই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় রোমাঞ্চের বাবা-মা ও ছোট ভাই সামান্য আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার সময় ঘোড়ার গাড়িটি আরেকটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায় এবং ভেঙে যায়।
ঘটনার পর সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ার গাড়ি পরিচালনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ঘোড়ার গাড়িচালকদের সংগঠন ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন লোকাল একশোর সহসভাপতি আলেকজান্ডার কেম্প বলেন, চালকের গাড়ি ছেড়ে ছবি তুলতে যাওয়া নিয়মের বাইরে ছিল। এমন ঘটনা ঘটতে দেওয়া উচিত হয়নি।
তিনি জানান, দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চালককে অনির্দিষ্টকালের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ ঘটনার পর নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য ক্রিস্টোফার মার্টে সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ার গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, এ ধরনের ঘটনাকে আর বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
পার্ক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাস থেকে সেন্ট্রাল পার্ক ও আশপাশের এলাকায় অন্তত আটটি ঘোড়াসংক্রান্ত দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত মাসেও একটি ঘোড়া আরেকটি গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে সেটি উল্টে দিয়েছিল।