Skip to main content

Ridge Bangla

মহারাষ্ট্রের শিক্ষক নিয়োগ প্রশ্নফাঁসের মূল অভিযুক্ত বিহার থেকে গ্রেপ্তার

ভারতের মহারাষ্ট্র শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস মামলার মূল অভিযুক্ত বিজেন্দ্র কুমার গুপ্তকে বিহার থেকে গ্রেপ্তার করেছে থানে সিটি পুলিশ। শনিবার (২৫ জুলাই) তাকে গ্রেপ্তারের পর পুনে বিমানবন্দরে আনা হয়েছে। সেখান থেকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য তাকে ভিওয়ান্ডিতে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহারাষ্ট্র থেকে পালিয়ে বিজেন্দ্র কুমার গুপ্ত ভুয়া নাম-পরিচয়ে বিহারে আত্মগোপন করে ছিলেন।

পুলিশের তথ্যমতে, কোচিং সেন্টারের সাবেক শিক্ষক বিজেন্দ্র গুপ্ত একাধিক প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলার আসামি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পলাতক ছিলেন। এদিকে মামলার তদন্ত দ্রুত এগোলেও রাজ্য সরকার এখনো শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা করেনি।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দাদা ভুসের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো আন্দোলন জোরদার করেছে। এর মধ্যেই বিজেন্দ্র গুপ্তকে গ্রেপ্তার করা হলো।

এর আগে গত ৫ জুলাই এই মামলার তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্ত দল উত্তর প্রদেশের আগ্রাভিত্তিক একটি ছাপাখানার ৩ কর্মীকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ছাপানোর সময়ই তারা সেটি ফাঁস করেছিলেন। ওই গ্রেপ্তারের পর মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ১০ জনে পৌঁছায়। তখনও পলাতক ছিলেন বিজেন্দ্র গুপ্ত।

গ্রেপ্তার হওয়া ওই ৩ জন হলেন নরেশকুমার পুরানচাঁদ মাহোর (৩৫), সঞ্জয়কুমার সুরেশচন্দ্র চন্দ্র (৪৪) এবং বাবুলাল নারায়ণসিং কুশওয়াহা (৪৫)। তাদের দিল্লি থেকে ভিওয়ান্ডি আদালতে হাজির করা হলে আদালত ৯ জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

ডেপুটি পুলিশ কমিশনার পবন বানসদ বলেন, পুলিশ বিজেন্দ্র গুপ্তের অবস্থান শনাক্ত করে বিহার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি বলেন, ‘আজ সকালে আমরা তাকে বিহার থেকে গ্রেপ্তার করেছি। আমরা তাঁকে থানেতে নিয়ে আসছি। তাঁকে হেফাজতে নিতে আবেদন করার জন্য আদালতে হাজির করব।’

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র কেনার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়ে পরে আত্মগোপনে যাওয়া আরও কয়েকজনকে খুঁজছে পুলিশ। এ মামলায় আগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা এখনও বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। শিগগিরই মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

পরীক্ষার ২ দিন আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। ভিওয়ান্ডির এক বাসিন্দার দেওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে থানে সিটি পুলিশ জানতে পারে, ৩ ব্যক্তি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিক্রির চেষ্টা করছেন। পরে অভিযানে নেমে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, তাদের কাছে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ছিল। এরপর বিহার থেকে রাজীব কুমার ও আকাশ কুমার এবং হরিয়ানা থেকে ধীরজ সিংকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়।

তদন্তে আগ্রার মহিম পত্রন প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি ছাপাখানাকে প্রশ্নফাঁসের উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেখানকার ২ বর্তমান ও ১ সাবেক কর্মী জুতার সোলের ভেতরে প্রশ্নপত্রের কপি লুকিয়ে বাইরে পাচার করেছিলেন। পুলিশের দাবি, মাত্র ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে বিজেন্দ্র গুপ্ত ওই ৩ জনকে এ কাজে ব্যবহার করেছিলেন।

প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার দীর্ঘদিন ধরেই মহারাষ্ট্রের বাইরে প্রশ্নপত্র ছাপিয়ে আসছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার আগ্রার ওই ছাপাখানায় প্রশ্নপত্র ছাপানো হয়। ছাপাখানার পরিচয় শুধু পরীক্ষা পরিষদের প্রধান জানতেন।

এদিকে গ্রেপ্তার হওয়া এক অভিযুক্তের কাছ থেকে ৩টি জীবন্ত গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ভিওয়ান্ডির সহকারী পুলিশ কমিশনার বিজয় মারাঠে বলেন, এক অভিযুক্তের কাছ থেকে ৩টি জীবন্ত গুলি উদ্ধার হওয়ায় তদন্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গুলিগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এর আগে ২০১৭ সালে রাজ্য সরকার একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার কাজ পরিচালনা করেছিল। তবে ২০২১ সালে আরেকটি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর আবার রাজ্যের বাইরের ছাপাখানায় প্রশ্নপত্র ছাপানোর পদ্ধতিতে ফিরে যায়। বর্তমানে সেই ব্যবস্থাও প্রশ্নের মুখে পড়ায় স্কুল শিক্ষা বিভাগ বিকল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করছে।

This post was viewed: 5

আরো পড়ুন