Skip to main content

Ridge Bangla

ভূমিকম্পের আগেই ভেনেজুয়েলায় লাখো ফোনে সতর্কবার্তা পাঠায় গুগল

লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার আগমুহূর্তে লাখো মানুষের মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল গুগল। অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্টস সিস্টেমের মাধ্যমে এই সতর্কবার্তা পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

ভেনেজুয়েলায় ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৩২ জন নিহত এবং ৭ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। তবে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, এই দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা এক লাখে পৌঁছাতে পারে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমি কাঁপতে শুরু করার ঠিক আগে ভেনেজুয়েলার বহু মানুষ তাদের অ্যান্ড্রয়েড ফোনে গুগলের সতর্কবার্তা পান। ভূমিকম্পের প্রাথমিক কম্পন শনাক্ত করে শক্তিশালী ঝাঁকুনি পৌঁছানোর আগেই আশপাশের ব্যবহারকারীদের কাছে সতর্কবার্তা পাঠায় এই ব্যবস্থা।

গুগলের এই প্রযুক্তি বিশ্বের কোটি কোটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের ওপর নির্ভর করে কাজ করে। এসব ফোনে থাকা মোশন সেন্সর খুব সামান্য ভূমি-কম্পনও শনাক্ত করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গুগল ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেয়নি। বরং ভূমিকম্পের প্রাথমিক সংকেত শনাক্ত করে বড় ধরনের কম্পন পৌঁছানোর আগেই মানুষকে সতর্ক করেছে।

এইচআর অ্যানেক্সির বিওটিএস.এআই-এর পরিচালক নিখার আরোরা বলেন, “গুগল কিন্তু ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেয়নি। বরং ভূমিকম্পের একেবারে প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করে তীব্র কম্পন শুরু হওয়ার আগেই সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে।”

তিনি জানান, অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলো বড় আকারের একটি সেন্সর নেটওয়ার্ক হিসেবে কাজ করে। ফোনের অ্যাক্সেলেরোমিটার ভূমিকম্পের প্রাথমিক কম্পন তরঙ্গ বা ‘পি-ওয়েভ’ শনাক্ত করতে সক্ষম।

আরোরা বলেন, “অসংখ্য ডিভাইসে একই ধরনের সংকেত শনাক্ত করার মাধ্যমে গুগলের অ্যালগরিদম ভূমিকম্পের অবস্থান ও মাত্রা নির্ধারণ করে। পরে আশপাশের সব মানুষকে সতর্কবার্তা পাঠায়।”

এর মাধ্যমে মানুষ কয়েক সেকেন্ড সময় পেতে পারে। জরুরি পরিস্থিতিতে এই সামান্য সময়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এতে মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা থেকে সরে যেতে, বিপজ্জনক কাজ বন্ধ করতে কিংবা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ পায়।

এনভায়রোকেয়ার ফাউন্ডেশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হৃষিত প্যানথ্রির মতে, ভেনেজুয়েলার ঘটনা শুধু ভূমিকম্প সতর্কতার ক্ষেত্রেই নয়, দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রযুক্তির সম্ভাবনাও তুলে ধরেছে।

তিনি বলেন, “ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব না হলেও প্রযুক্তির সাহায্যে তাৎক্ষণিকভাবে ভূমিকম্প শনাক্ত করা যায়। দ্রুততম সময়ে মানুষের কাছে কম্পনের তথ্য পৌঁছে দিয়ে আহত ও নিহতের সংখ্যা কমানো সম্ভব।”

This post was viewed: 22

আরো পড়ুন