Skip to main content

Ridge Bangla

ভিক্ষার টাকা সুদে খাটিয়ে কোটিপতি ভিক্ষুক, মিলল বিপুল সম্পদের সন্ধান

মাঙ্গিলাল একটি বিশেষভাবে তৈরি বল-বিয়ারিং লাগানো ঠেলাগাড়িতে বসে ইন্দোরের ব্যস্ত সারাফা বাজারে ঘুরে বেড়ান। কাঁধে ব্যাকপ্যাক ও হাতে জুতো পরে তিনি ভিক্ষা চান না; বরং নীরব উপস্থিতির মাধ্যমেই মানুষের সহানুভূতি জাগিয়ে স্বেচ্ছায় দান গ্রহণ করেন।

মাঙ্গিলাল একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও তিনি কোটিপতি ভিক্ষুক। তার মালিকানায় তিনটি বাড়ি (একটি সরকারি বরাদ্দপ্রাপ্ত), তিনটি অটোরিকশা ও একটি মারুতি সুজুকি ডিজায়ার গাড়ি রয়েছে। ইন্দোরকে ভিক্ষুকমুক্ত শহর করতে ভারতের নারী ও শিশু উন্নয়ন দপ্তরের ভিক্ষাবিরোধী অভিযানে তাকে সম্প্রতি আটক করা হয়েছে।

সারাফা এলাকায় এক কুষ্ঠরোগী ভিক্ষুককে নিয়ে অভিযান চালাতে গিয়ে উদ্ধারকারী দল এক অপ্রত্যাশিত ঘটনার মুখোমুখি হয়। মাঙ্গিলাল নামের ওই ব্যক্তি বছরের পর বছর নীরবে ভিক্ষা করে কৌশলে পারদর্শী হয়ে ওঠেন। তিনি কখনো হাত পাততেন না, শুধু নিজের লোহার গাড়িতে বসে থাকতেন, আর মানুষের সহানুভূতিই তাকে দান করতে উদ্বুদ্ধ করত। এই নীরব ভিক্ষার মাধ্যমেই তার দৈনিক আয় হতো প্রায় ৪০০–৫০০ রুপি।

তদন্তে জানা যায়, মাঙ্গিলালের প্রকৃত ব্যবসা চলত রাতের বেলায়। ভিক্ষা করে পাওয়া টাকা তিনি নিজের খরচে না লাগিয়ে সারাফা বাজারে বিনিয়োগ করতেন। তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের স্বল্পমেয়াদি নগদ ঋণ দিতেন এবং প্রতিদিন সন্ধ্যায় সুদ আদায় করতেন। ধারণা করা হচ্ছে, তার মোট ঋণের পরিমাণ ৪–৫ লাখ রুপি, যার মাধ্যমে তিনি প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার রুপি আয় করতেন।

নারী ও শিশু উন্নয়ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও উদ্ধার অভিযানের নোডাল অফিসার দীনেশ মিশ্র জানান, মাঙ্গিলালকে উজ্জয়নের সেবাধাম আশ্রমে পাঠানো হয়েছে এবং তার ব্যাংক হিসাব ও সম্পত্তির তদন্ত চলছে। পাশাপাশি, তার কাছ থেকে ঋণ নেওয়া ব্যবসায়ীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদে মাঙ্গিলাল স্বীকার করেছেন যে ভিক্ষা করে জমানো টাকা তিনি সারাফা এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ীকে স্বল্পমেয়াদে সুদে ধার দিতেন এবং প্রতিদিন সেখানে গিয়ে সুদ আদায় করতেন।

This post was viewed: 42

আরো পড়ুন