দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার দক্ষিণ দাউদপুর সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় গ্রামবাসীর সংঘর্ষে নারী-শিশুসহ অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় সংশ্লিষ্ট বিওপির ১২ সদস্যকে প্রত্যাহার করে ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিজিবির জয়পুরহাট ২০ ব্যাটালিয়নের দাউদপুর বিওপির সদস্যরা দক্ষিণ দাউদপুর গ্রামের মসজিদের মুয়াজ্জিন আতিয়ার রহমান ও তার সঙ্গী আমিনুল ইসলামকে সীমান্তসংলগ্ন এলাকা থেকে আটক করেন। বিজিবি সদস্যরা তাদের ভারত থেকে অনুপ্রবেশের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করে। আতিয়ার জানান, তিনি খামারের হাঁস আনতে গিয়েছিলেন, কিন্তু তাকে টহল পোস্টে নিয়ে মারধর করা হয়। চিৎকার শুনে তার মা রাবেয়া বেগম এগিয়ে গেলে তাকেও পেটানো হয় বলে অভিযোগ। পরে গ্রামবাসী ছুটে গিয়ে বিজিবির সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ায় এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে টহল পোস্টে ভাঙচুর হয় এবং আতিয়ার, রাবেয়া ও আমিনুলকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আধাঘণ্টা পর বিজিবির আরও সদস্য গ্রামে গিয়ে লাঠি ও পাইপ দিয়ে নারী-শিশুসহ গ্রামবাসীর ওপর হামলা চালায়। এতে ইউপি সদস্য মইনুল ইসলাম ও তার স্ত্রীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।
দাউদপুর বিওপি কমান্ডার সুবেদার তাইফুর রহমান বলেন, বিজিবি ও স্থানীয়দের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। পরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়। এ ঘটনার পর তদন্তের স্বার্থে ১২ সদস্যকে বিওপি থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।