Skip to main content

Ridge Bangla

বহর বাড়াতে ১০ উড়োজাহাজ লিজে নেওয়ার পরিকল্পনা বিমানের

পরিচালন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যে বহর সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০টি উড়োজাহাজ লিজে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাস থেকে আরও ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। তবে এর মধ্যে ৩টি সাময়িকভাবে গ্রাউন্ডেড থাকায় ফ্লাইট পরিচালনায় চাপ সৃষ্টি হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বহরের আকার দাঁড়াবে ২৯টি, যা বর্তমান বহরের তুলনায় প্রায় ৫৩ শতাংশ বেশি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বোয়িং ও এয়ারবাস উভয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের কারণে ২০৩০ সালের আগে নতুন উড়োজাহাজ হাতে পাওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই তাৎক্ষণিক পরিচালন চাহিদা পূরণ এবং নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে লিজে উড়োজাহাজ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, শুরুতে ৪টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও পরিচালন প্রয়োজন ও রুট সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সংখ্যা সর্বোচ্চ ১০টিতে উন্নীত করা হতে পারে।

তিনি বলেন, চলতি বছরের মধ্যেই লিজ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হলে আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন গন্তব্যেও সেবা চালু করা সম্ভব হবে।

লিজ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে বিমান। এ পর্যন্ত প্রায় ৪০টি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করে আবেদন জমা দিয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে একটি প্রতিষ্ঠানকে পুরো প্রক্রিয়া তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হবে।

এদিকে, ৬ বছরের জন্য ড্রাই লিজে ৩টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার সংগ্রহে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে বিমান। লক্ষ্য রয়েছে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে উড়োজাহাজগুলো বহরে অন্তর্ভুক্ত করার।

এর আগে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে ১৪টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। চুক্তি অনুযায়ী, ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এসব উড়োজাহাজ সরবরাহ করা হবে।

অন্যদিকে, ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা এয়ারবাস বাংলাদেশকে আরও ১০টি উড়োজাহাজ সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবিত বহরে রয়েছে ৬টি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি এবং ৪টি এ৩২১ নিও ন্যারোবডি উড়োজাহাজ।

এ প্রস্তাব নিয়ে গত ১৫ জুলাই বাংলাদেশ সফর করেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের রাষ্ট্রদূতরা। সফরকালে তারা বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম এবং প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও স্পেনের রাষ্ট্রদূত, জার্মান দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিশনের ডেপুটি চিফ উপস্থিত ছিলেন।

This post was viewed: 15

আরো পড়ুন