Skip to main content

Ridge Bangla

বন্ধ কারখানায় ১,০৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান হবে ৩ হাজার মানুষের

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বন্ধ ও অলস শিল্পসম্পদকে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানমুখী করতে বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে নতুন একটি প্রকল্পে প্রায় ১ হাজার ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার পণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি প্রায় ৩ হাজার মানুষের নতুন কর্মসংস্থান হবে।

বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।

এর আগে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ জুট মিলস লিমিটেডের নরসিংদী ইউনিটের অতিরিক্ত ১৪ দশমিক ৮০ একর জমি জুট অ্যালায়েন্স লিমিটেডকে ইজারা দেওয়ার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর বলেন, দীর্ঘদিন অলস পড়ে থাকা রাষ্ট্রীয় সম্পদ অর্থনীতির জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে বন্ধ মিল পুনরুজ্জীবিত করে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

মন্ত্রী জানান, নতুন প্রকল্পে প্রায় ১ হাজার ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার উৎপাদন সম্ভব হবে। পাশাপাশি নতুন করে প্রায় ৩ হাজার মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হবে।

সয়াবিনবীজ প্রক্রিয়াজাত করে ভোজ্যতেল উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা শক্তিশালী করতেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি।

খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর বলেন, সরকার সরাসরি ব্যবসা পরিচালনার পরিবর্তে দক্ষ বেসরকারি খাতকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে।

দীর্ঘমেয়াদি ইজারা, রাজস্ব ভাগাভাগি ও যৌথ মালিকানাভিত্তিক বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কাঠামোর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আগামী ২ বছরের মধ্যে অধিকাংশ বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন কার্যক্রম দৃশ্যমান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রপ্তানি আয় নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি, ইউরোপীয় বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া এবং বিভিন্ন দেশের নতুন শুল্কনীতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোক্তা ব্যয় হ্রাস পেয়েছে।

তবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প ধীরে ধীরে উচ্চমূল্যের কৃত্রিম তন্তু ও মূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদনের দিকে এগোচ্ছে। এ রূপান্তর সম্পন্ন হলে একই পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করেও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, নরসিংদীর বাংলাদেশ জুট মিলস লিমিটেডের মোট ৭৭ দশমিক ০২ একর জমির মধ্যে আগে ৩৪ দশমিক ৫০ একর জুট অ্যালায়েন্স লিমিটেডকে ইজারা দেওয়া হয়েছিল।

সেখানে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৪০ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ২০০ মানুষের। নতুন জমি যুক্ত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ও বিনিয়োগ সক্ষমতা আরও বাড়বে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, উৎপাদন বন্ধ থাকা ২৫টি পাটকলের মধ্যে ২০টি ইজারা দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এরই মধ্যে ১৪টি মিলের ইজারা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং ৯টি মিলে উৎপাদন শুরু হয়েছে।

এসব মিলে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। দৈনিক প্রায় ১৬০ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য উৎপাদন করা হচ্ছে।

মো. শরীফুল আলম বলেন, বন্ধ শিল্প-কারখানা পুনরায় চালু করা বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার। পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন এবং অন্যান্য বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানেও বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

জুট অ্যালায়েন্স লিমিটেডের এক প্রতিনিধি জানান, সরকারের বন্ধ পাটকল পুনরায় চালুর কর্মসূচির আওতায় গত ২ বছরে প্রায় ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। কারখানার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ৩৫ টন থেকে বাড়িয়ে ৫০ টনে উন্নীত করা হয়েছে। উৎপাদিত পণ্যের শতভাগ রপ্তানি করা হচ্ছে।

তিনি জানান, পরবর্তী ধাপে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে দৈনিক ৩ হাজার টন সক্ষমতার একটি বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থার সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।

এ প্রকল্পে সয়াবিন তেল ও সয়া মিল উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি আরও প্রায় ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

This post was viewed: 12

আরো পড়ুন