ফ্রিল্যান্সার ও ব্যক্তিগত সেবা রপ্তানিকারকদের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন আরও সহজ, স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে অনলাইনে সেবা রপ্তানির ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা গ্রহণ, দেশে প্রত্যাবাসন, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের বিদ্যমান বিধানগুলো একত্র করে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ বুধবার এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, তথ্যপ্রযুক্তি, বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং এবং অন্যান্য ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা রপ্তানির ক্ষেত্রে পণ্য রপ্তানির মতো রপ্তানি ফরম দাখিলের প্রয়োজন হবে না। তবে সেবা রপ্তানির বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, দেশে প্রত্যাবাসন এবং প্রতিবেদন দাখিল বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালা অনুসারে সম্পন্ন করতে হবে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, ফ্রিল্যান্সাররা বিদেশি গ্রাহকের কাছ থেকে সেবা প্রদানের বিপরীতে অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন। প্রচলিত রপ্তানি নথি না থাকলেও ই-মেইল, চুক্তিপত্র, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের বিবরণ, ডিজিটাল চালান, রেমিট্যান্স বার্তা বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলো লেনদেন যাচাই করে গ্রাহকের হিসাবে অর্থ জমা দিতে পারবে।
এতে আরও বলা হয়, ২০ হাজার মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ অর্থ পর্যন্ত দেশে আসা রেমিট্যান্স ফরম-সি ছাড়াই গ্রহণ করা যাবে। এর বেশি অর্থের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিরাপদ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইন ফরম-সি দাখিল করতে হবে, যদি না বিদ্যমান অন্য কোনো নির্দেশনায় ভিন্নভাবে অনুমোদন দেওয়া থাকে।
নতুন নির্দেশনায় আন্তর্জাতিক অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সেবা প্রদানকারীর মাধ্যমে ক্ষুদ্র পরিসরের সেবা রপ্তানির অর্থ দেশে আনার সুযোগ বহাল রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা ১০ হাজার মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বিদেশে কোনো ধরনের বৈদেশিক মুদ্রা স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যাবে না এবং সব আয় দেশে প্রত্যাবাসন করতে হবে।
এ ছাড়া যোগ্য ফ্রিল্যান্সারদের জন্য দ্বৈত মুদ্রাভিত্তিক ফ্রিল্যান্সার কার্ড ইস্যু, মোবাইল আর্থিক সেবা ও পেমেন্ট সেবা প্রদানকারীর মাধ্যমে রপ্তানি আয় গ্রহণ এবং তথ্যপ্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট সেবা রপ্তানিকারকদের জন্য রপ্তানিকারকের বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণ হিসাব পরিচালনার বিধান বহাল রাখা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, সফটওয়্যার, তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি-সম্পর্কিত সেবা রপ্তানিকারকরা তাদের নিট রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ এবং অন্যান্য বৈধ সেবা রপ্তানিকারকরা সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রা এ হিসাবে সংরক্ষণ করতে পারবেন। অবশিষ্ট অর্থ বাধ্যতামূলকভাবে টাকায় রূপান্তর করে স্থানীয় মুদ্রার হিসাবে জমা দিতে হবে।
এ হিসাবের অর্থ বিদেশ ভ্রমণ, সফটওয়্যার নিবন্ধন, ডোমেইন ও হোস্টিং ফি, সার্ভার রক্ষণাবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানি এবং অনুমোদিত চলতি খাতের বৈধ ব্যক্তিগত ব্যয়সহ নির্ধারিত কাজে ব্যবহার করা যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সেবা রপ্তানির অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে আনতে হবে। অনুমোদিত ব্যবস্থার বাইরে বিদেশে ব্যাংক হিসাব, সম্পদ বা ভার্চুয়াল সম্পদে রপ্তানি আয় সংরক্ষণ করা বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭-এর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।
একই সঙ্গে সব লেনদেনে গ্রাহক পরিচিতি, অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধবিষয়ক বিধান এবং প্রযোজ্য কর-সংক্রান্ত আইন যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।