Skip to main content

Ridge Bangla

ফ্রিজ নেই, ঠান্ডা পানিও বিলাসিতা: গাজার তাপদাহে পচছে খাবার-ওষুধ

ইসরায়েলি অবরোধ, জ্বালানি সংকট ও দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎহীনতার কারণে গাজা উপত্যকায় তীব্র তাপদাহের মধ্যে নতুন মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজ ব্যবহার করতে না পারায় খাবার, শাকসবজি এবং জীবনরক্ষাকারী ওষুধ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে বাস্তুচ্যুত লাখো ফিলিস্তিনি খাদ্যসংকটের পাশাপাশি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েছেন।

গাজার উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন তাবুতে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলো জানিয়েছে, ত্রাণ হিসেবে পাওয়া অতিরিক্ত খাবার কয়েক ঘণ্টার বেশি সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। অকেজো হয়ে পড়া ফ্রিজ অনেকেই এখন আলমারি বা রান্নাঘরের তাক হিসেবে ব্যবহার করছেন।

গাজার বাসিন্দা মালেক আল জানিন বলেন, সন্তানদের জন্য খাবার রেখে দেওয়ার কোনো উপায় নেই। প্রচণ্ড গরমে তাবুর ভেতরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই খাবার নষ্ট হয়ে যায়। এমনকি ঠান্ডা পানিও পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে গরম পানির ট্যাংকের পানি পান করতে হচ্ছে।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর জানিয়েছে, তীব্র তাপপ্রবাহ ও দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ সংকটের কারণে গাজায় খাদ্যবাহিত রোগ, ডায়রিয়া এবং বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে আবর্জনা জমে মাছি, পোকামাকড় ও ইঁদুরের উপদ্রব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দীর্ঘমেয়াদি রোগীরা। গাজা সিটির ৪৩ বছর বয়সী বাসিন্দা মানাল হামাদ বলেন, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ, বিশেষ করে ইনসুলিন সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজ প্রয়োজন। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না। কখনো অর্থের বিনিময়ে অন্যের ফ্রিজে ওষুধ রাখতে গেলেও বিদ্যুৎ না থাকায় সেই ব্যবস্থাও কাজে আসে না।

অন্যদিকে জীবিকার তাগিদে ৩৪ বছর বয়সী মোহাম্মদ আল জানিন একটি ছোট জেনারেটর ও ফ্রিজার চালিয়ে অর্থের বিনিময়ে মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া এবং পানির বোতল ও জুস ঠান্ডা করার সেবা দিচ্ছেন। তবে বিদ্যুতের উচ্চ ব্যয়ের কারণে অধিকাংশ মানুষের পক্ষে সেই সেবাও গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, একদিন এক বাকপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি একটি আম ঠান্ডা করে দেওয়ার অনুরোধ নিয়ে এসেছিলেন। এখন একটি মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া কিংবা এক বোতল ঠান্ডা পানি পাওয়া গাজাবাসীর কাছে বিলাসিতার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর আরও জানিয়েছে, জুন মাসের শুরুতে গাজায় মাত্র ১০ লাখ লিটার ডিজেল প্রবেশের সুযোগ মিললেও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনরক্ষাকারী অবকাঠামোর প্রয়োজনের তুলনায় সেই পরিমাণ অত্যন্ত অপ্রতুল।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ সংকট ও তীব্র তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে গাজায় খাদ্যনিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার সংকট আরও গভীর হবে।

This post was viewed: 7

আরো পড়ুন