রাজধানীতে আবারও ভূমিকম্প অনুভূত। আজ বৃহস্পতিবার (০৪ ডিসেম্বর) সকাল ০৬টা ১৪ মিনিটে অনুভূত এ কম্পনের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর শিবপুরে।
তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
আন্তর্জাতিক ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১। এই ভূমিকম্পের গভীরতা ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩০ কিলোমিটার এবং এর উৎপত্তিস্থল ছিল গাজীপুরের টঙ্গী থেকে ৩৩ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তরপূর্ব দিকে এবং নরসিংদীর ৩ কিলোমিটার উত্তরে।
এর আগে সোমবার রাত ১২টা ৫৫ মিনিট ১৬ সেকেন্ডে আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৯। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল মিয়ানমারের মিনজিন এলাকায়। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কম্পনটি অনুভূত হয়।
এছাড়াও, গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট ২০ সেকেন্ডে রাজধানী ঢাকায় ভূমিকম্প হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, সে সময় কম্পনের মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৬, যার উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল এলাকা। ওইদিন ভোরে সিলেট এবং কক্সবাজারের টেকনাফেও দুই দফায় কম্পন অনুভূত হয়।
এরও আগে গত ২১ ও ২২ নভেম্বরের মধ্যে প্রায় ৩১ ঘণ্টার ব্যবধানে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় চারবার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। এর মধ্যে ২১ নভেম্বর শুক্রবার সকালে ঘটে যাওয়া ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ঢাকার কাছেই- নরসিংদীর মাধবদীতে। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল এর উৎপত্তিস্থল। ২১ নভেম্বরের ওই শক্তিশালী ভূমিকম্পে দেশে ১০ জনের মৃত্যু এবং ছয় শতাধিক মানুষের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।
সাম্প্রতিক সময়ে বেশিরভাগ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল হিসেবে নরসিংদী এলাকা চিহ্নিত হচ্ছে। কারণ এই অঞ্চলটি পূর্ব পাশে বার্মা প্লেট এবং পশ্চিম পাশে ইন্ডিয়ান প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত, যা একটি সক্রিয় সাবডাকশন জোন হিসেবে পরিচিত।