ফরিদপুরে মাদকসহ আটকের পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে থাকা অবস্থায় মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্ত (২৪) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।
রোববার (২১ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
প্রান্ত মধুখালী পৌরসভার গোন্দারদিয়া এলাকার মৃত মির্জা এসকেন্দারের ছেলে এবং ফরিদপুর আইন মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর তিনি মধুখালী চিনিকলে চাকরি করে সংসার চালাতেন।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যায় গোন্দারদিয়া গ্রাম থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ প্রান্তকে আটক করে ডিবির একটি দল। পরে তাকে মধুখালী থানায় নেওয়া হয়। এরপর মাদকবিরোধী আরও অভিযান শেষে ভোর ৪টার দিকে তাকেসহ চারজনকে ফরিদপুরে এনে ডিবি হেফাজতে রাখা হয়।
পুলিশ জানায়, ভোর ৫টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রান্তকে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শ্বাসকষ্ট ও ব্রেইন স্ট্রোকজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে প্রান্তের মৃত্যু হয়েছে।
তিনি বলেন, ভোরে অন্য আসামিদের সঙ্গে তাকে রাখা হয়েছিল এবং ওই কক্ষে বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবস্থাও ছিল। তিনি ফজরের নামাজ আদায় করেন। এরপর নিজেই শ্বাসকষ্টের কথা জানান। বিষয়টি জানার পর দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তবে পরিবারের দাবি, আটকের সময় থেকেই প্রান্তকে নির্যাতন করা হয়েছে। নিহতের চাচি নাসরিন জামান অভিযোগ করেন, শনিবার বিকেলে মিল থেকে ফেরার পর রাস্তা থেকে ডিবি পরিচয়ে কয়েকজন তাকে ধরে মারধর করে। পরে ঘরের ভেতর নিয়েও তাকে মারধর করা হয়।
তার দাবি, প্রান্তের কাছ থেকে কিছুই পাওয়া যায়নি। পরে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সকালে অসুস্থতার কথা জানানো হলেও হাসপাতালে গিয়ে তারা প্রান্তকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
নিহতের মা মির্জা খাদিজা আক্তার নিপার অভিযোগ, তার সামনেই প্রান্তকে মারধর করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। নির্যাতন করেই তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন তিনি।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম জানান, প্রান্তের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে দুটি মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
পুলিশ সুপার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উচ্চ রক্তচাপের কারণে স্ট্রোকজনিত সমস্যায় তার মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।