Ridge Bangla

প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিতর্কে ত্রুটিহীন পরীক্ষাব্যবস্থা গড়ার নির্দেশ মোদির

ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসকে ঘিরে চলমান যুব আন্দোলনের মধ্যে সরকারি পরীক্ষাব্যবস্থা আরও নির্ভরযোগ্য ও ত্রুটিহীন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, তরুণদের ভবিষ্যৎ যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে সবাইকে একযোগে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

মঙ্গলবার ক্ষমতাসীন জোটের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে বৈঠকে মোদি এ নির্দেশনা দেন। পরে মন্ত্রিসভার সদস্য ও সংসদীয়বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু তাঁর বক্তব্যের বিষয়টি জানান। গত মে মাসে মেডিকেল কলেজে ভর্তির জাতীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর এ বিষয়ে এটিই ছিল মোদির প্রথম প্রকাশ্য মন্তব্য। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ তাঁর তৃতীয় মেয়াদের অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সোমবার দিল্লিতে হাজারো তরুণ সংসদ ভবনের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের প্রধান দাবি ছিল প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এ ঘটনায় ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, মিছিলকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। দিল্লি পুলিশের দাবি, এতে প্রায় ১৮০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১১৮ জন পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ৬০ জন বিক্ষোভকারী। তবে আন্দোলনের আয়োজকদের দাবি, হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৫০-এর বেশি বিক্ষোভকারী। রয়টার্স স্বাধীনভাবে এ তথ্য যাচাই করতে পারেনি। সংঘর্ষের সময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।

মোদি দাবি করেন, পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পুনঃপরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়েই ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

কিরেন রিজিজু বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দোষীদের শাস্তির পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে একটি নির্ভরযোগ্য ও ত্রুটিহীন পরীক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

এদিকে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছে, সরকারবিরোধী কর্মসূচি অব্যাহত থাকলেও আপাতত সংসদ অভিমুখে আর কোনো মিছিল করা হবে না। আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা অভিজিৎ দিপকে বলেন, পুলিশের হামলায় আরও তরুণ আহত হোক, তা তারা চান না। নারী বিক্ষোভকারীদের পুরুষ পুলিশ সদস্যদের মারধরের অভিযোগ তুলে তিনি সমর্থকদের কাছে দুঃখও প্রকাশ করেন।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিপুলসংখ্যক তরুণের সমর্থন পেয়েছে। চাকরির সংকট এবং বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ক্ষুব্ধ তরুণদের হতাশাই আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে, আন্দোলনের সমর্থক ও ম্যাগসেসে পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশনও এই আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ২৮ জুন অনশন শুরুর পর শনিবার পুলিশ তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্ট তাঁকে সরকারি হাসপাতাল থেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দিয়েছে। আন্দোলনকারীদের তিন দফা দাবির একটি ছিল তাঁর মুক্তি।

আন্দোলনকারীদের বাকি দাবির মধ্যে রয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর আত্মহত্যা করা প্রায় এক ডজন শিক্ষার্থীর প্রতিটি পরিবারকে ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া। প্রশ্নপত্র ফাঁসের এই বিতর্ক এখন ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা, তরুণদের ভবিষ্যৎ এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিয়ে বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

This post was viewed: 4

আরো পড়ুন