গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ‘রামমূর্তি’ নির্মাণের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্র তরণীকে প্রতারণার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ময়মনসিংহের একটি আদালত।
মঙ্গলবার ময়মনসিংহ জেলা যুগ্ম দায়রা জজ (অর্থ ও ঋণ) আদালতের বিচারক এ আদেশ দেন।
হরিদাস চন্দ্র তরণী গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের কোমরপুরের মধ্যরামচন্দ্রপুর (নয়াপাড়া) গ্রামের মৃত গোপীনাথ চন্দ্র তরণী দাসের ছেলে। তাঁর জন্ম ১৯৯১ সালে। তাঁর তিন ভাই দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করছেন। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় তিনি ভারতে যান। সেখানে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন।
ময়মনসিংহ যুগ্ম দায়রা জজ (অর্থ ও ঋণ) আদালতের সরকারি কৌঁসুলি মো. আনোয়ার আজিজ টুটুল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ঢাকা জেলার একটি মামলায় হরিদাস চন্দ্র তরণীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ফুলবাড়িয়া থানা-পুলিশ প্রতারণার একটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাঁকে ময়মনসিংহ যুগ্ম দায়রা জজ (অর্থ ও ঋণ) আদালতে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আনোয়ার আজিজ আরও জানান, কোতোয়ালি সিআর মামলা নম্বর ১৪৯১/২০১২, এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় দায়ের করা মামলায় বিচার শেষে হরিদাস চন্দ্র তরণীর এক বছরের কারাদণ্ড হয়। ওই মামলায় তিনি পলাতক ছিলেন। সম্প্রতি অন্য একটি মামলায় তাঁকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হলে সেখান থেকে এনে ময়মনসিংহ আদালতে হাজির করা হয়।
এর আগে গত ১২ জুলাই অর্থ পাচারের মামলায় অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) হরিদাস চন্দ্র তরণীকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর ব্যাংক হিসাবে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বেশি সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। চার দিনের রিমান্ড শেষে ১৬ জুলাই তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
২০১০ সালে ভারত থেকে দেশে ফিরে রাজধানীর উত্তরায় পুরোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের মেকানিক হিসেবে কাজ শুরু করেন হরিদাস। গোয়েন্দা সংস্থার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালে তিনি ‘তাওহীদ ইসলাম’ নাম ধারণ করেন এবং ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার এক মুসলিম তরুণীকে বিয়ে করেন।
এ ছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক একটি কথিত ব্যবসার সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই শেখ সেলিমের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে। নিজের সঙ্গে শেখ হাসিনার ছবি ব্যবহার করে চাকরি, বদলি ও টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৮ সালে র্যাব তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল।
চলতি বছরের জুনে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার ‘রামমূর্তি’ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসেন হরিদাস চন্দ্র তরণী। পরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় ‘শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালীমন্দির’ কমিটি জুনের শেষ দিকে মূর্তি নির্মাণকাজ স্থগিতের ঘোষণা দেয়।