আরেকটি বৈশ্বিক যুদ্ধ প্রতিরোধে পারমাণবিক অস্ত্রকেই সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে দেখছে রাশিয়া। নতুন করে একাধিক দেশের মধ্যে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরুর আশঙ্কার মধ্যে এমন মন্তব্য করেছে ক্রেমলিন। বুধবার (২৪ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।
রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে থাকা সর্বশেষ পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’-এর মেয়াদ গত ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের ওপর থাকা বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণমূলক শর্তও কার্যত আর বহাল নেই। চুক্তিটি নতুন করে চালু করা কিংবা বিকল্প কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। তবে দুই দেশ উচ্চপর্যায়ের সামরিক আলোচনা আবার শুরু করতে সম্মত হয়েছে।
মস্কোয় একটি পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক ফোরামে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামো ক্রমেই দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। বাস্তবে পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা ছাড়া এখন পৃথিবীতে আর কিছু অবশিষ্ট নেই। এটিই বিশ্বকে একটি বৈশ্বিক যুদ্ধ থেকে দূরে রাখছে।
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কারণে ভবিষ্যতে নতুন ধরনের অ-পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি হতে পারে, যেগুলোর ধ্বংসক্ষমতা পারমাণবিক অস্ত্রের পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে।
ইউক্রেনে চার বছর ধরে চলা সামরিক অভিযানের সময় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একাধিকবার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এসব বক্তব্যের কারণে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র তার বিরুদ্ধে দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে পারমাণবিক হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন একটি পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির পক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন। তার প্রস্তাবিত চুক্তিতে চীনকেও যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। তবে পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার দ্রুত বাড়লেও চীনের সক্ষমতা এখনো রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক কম। বেইজিং প্রকাশ্যে এ ধরনের চাপ প্রত্যাখ্যান করেছে।
রাশিয়ার অবস্থান হলো, নতুন কোনো চুক্তিতে চীনকে যুক্ত করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক মিত্র যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সকেও আলোচনায় আনতে হবে। ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি এখন আর বহাল নেই।
২০১০ সালে স্বাক্ষরিত ‘নিউ স্টার্ট’ ছিল স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে টিকে থাকা সর্বশেষ বড় পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি। এই চুক্তির আওতায় রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেককে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫৫০টি মোতায়েনকৃত পারমাণবিক ওয়ারহেড রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দুই দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ না করার অভিযোগ তোলে।