পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসবিরোধী ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। গত ২৪ ঘণ্টায় পৃথক সংঘর্ষে অন্তত ৪৪ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। একই সময়ে জঙ্গিদের হামলায় একজন ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশসহ ৩ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে এসব ঘটনা ঘটেছে।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি জানান, বুধবার (২৯ জুলাই) গভীর রাতে খাইবার পাখতুনখাওয়ার হাঙ্গু জেলায় একটি পুলিশ চেকপোস্টে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এতে একজন ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশসহ ৩ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন।
তিনি বলেন, পাল্টা অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী ৮ সন্ত্রাসীকে হত্যা করে এবং হামলাটি প্রতিহত করে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ সংঘর্ষে আরও ১৮ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
এর আগে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস জানায়, আফগানিস্তান সীমান্তসংলগ্ন খাইবার জেলায় একাধিক অভিযানে ২৪ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। এছাড়া বেলুচিস্তানের নুশকি জেলায় পৃথক অভিযানে আরও ৮ সন্ত্রাসী নিহত হয়।
আইএসপিআর জানায়, অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার ও ধ্বংস করা হয়েছে। পলাতক সন্ত্রাসীদের ধরতে এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, খাইবার পাখতুনখাওয়ার সোয়াত জেলায় চলমান অভিযানে আরও ৪ সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। ওই এলাকায় তল্লাশি অভিযানও চলছে।
পাকিস্তানের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সোয়াত একসময় জঙ্গিগোষ্ঠীর শক্ত ঘাঁটি ছিল। তবে ২০০৯ সালে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের মাধ্যমে উপত্যকাটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে সরকার।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা বেড়েছে। ইসলামাবাদের দাবি, এসব হামলার সঙ্গে আফগানিস্তানভিত্তিক তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান জড়িত। তবে কাবুল এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।